একসময় ধারাবাহিক নাটক মানেই ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা গল্প আর চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের গভীর সম্পর্ক। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত মেগা ধারাবাহিক ‘হাবুর স্কলারশিপ। নাট্যকার আহসান আলমগীরের চিত্রনাট্যে এবং আল হাজেনের পরিচালনায় নির্মিত নাটকটি ইতোমধ্যে পেরিয়েছে ৪০০ পর্বের মাইলফলক।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচারিত হলেও দর্শকের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউব ও টিআরপিতেও নাটকটি ধরে রেখেছে তার অবস্থান। শুধু গল্প নয়, নাটকের চরিত্রগুলোর নামও দর্শকের মুখে মুখে ফিরছে। বিশেষ করে হাবু, ‘মারজান’ কিংবা ‘সেকেন্ড চেয়ারম্যান’ নামগুলো এতটাই পরিচিত হয়ে উঠেছে যে, অনেক দর্শকের কাছে রাশেদ সীমান্ত, অহনা ও তানজিকা আমিনের প্রকৃত নামের চেয়ে নাটকের চরিত্রের নামই বেশি পরিচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি ধারাবাহিককে দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় রাখার রহস্য কী? জানতে চাইলে নাট্যকার আহসান আলমগীর বলেন, নাটকটির গল্পে বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়াই দর্শকের সঙ্গে এর সংযোগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ এই পথচলায় দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং প্রায় তিন বছর ধরে নাটকটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুভূতি কেমন, জানতে চাইলে আহসান আলমগীর বলেন, ফেসবুক ও ইউটিউবে শত শত, হাজার হাজার কমেন্ট আসে। সেগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগে। দর্শক নানা ধরনের পরামর্শও প্রদান করেন। গল্প কী হলে ভালো হবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন। আবার অনেক দর্শক ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, সেই নিয়েও আগাম পূর্বাভাস দেন। এই যে দর্শক এত লম্বা একটা ধারাবাহিকের সঙ্গে বছরের পর বছর কানেক্ট আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন নাটক রচনার সঙ্গে যুক্ত আহসান আলমগীর। ২০০৭ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে তাঁর লেখা নাটক। প্রায় দুই দশকের এই পথচলায় তাঁর রচনায় ৬৪টি ধারাবাহিক এবং ৪৫০টির বেশি একক নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছে।
তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকের তালিকায় রয়েছে আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, মেহমান, কমেডি ৪২০, ঘোড়ার ডিম, ঘটক বাকি ভাই, জামাই বাজার ও বউয়ের দোয়া পরিবহন’সহ আরও বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটক।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে আরটিভির প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক পাড়ার বিশ্বকাপ’ও। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকদের উন্মাদনা, পাড়ার মানুষের তর্ক-বিতর্ক ও নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল নাটকটি। আহসান আলমগীরের রচনায় এবং আল-হাজেনের পরিচালনায় নির্মিত ‘পাড়ার বিশ্বকাপ আরটিভিতে প্রতিদিন প্রচারিত হয়।
শুধু নাট্যকার হিসেবেই নয়, অভিনয়েও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি সংগঠক হিসেবেও নাট্যাঙ্গনে সক্রিয় আহসান আলমগীর। তিনি টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এফটিপিওর দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
হাবুর স্কলারশিপ-এর ৪০০ পর্ব পেরোনো এবং একই সময়ে নতুন নতুন ধারাবাহিকে যুক্ত থাকা আহসান আলমগীরের দীর্ঘ নাট্যযাত্রারই প্রতিফলন। গল্প, চরিত্র ও বাস্তবতার সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি করেই বছরের পর বছর এই পথচলা ধরে রেখেছেন তিনি।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
একসময় ধারাবাহিক নাটক মানেই ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা গল্প আর চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের গভীর সম্পর্ক। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত মেগা ধারাবাহিক ‘হাবুর স্কলারশিপ। নাট্যকার আহসান আলমগীরের চিত্রনাট্যে এবং আল হাজেনের পরিচালনায় নির্মিত নাটকটি ইতোমধ্যে পেরিয়েছে ৪০০ পর্বের মাইলফলক।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচারিত হলেও দর্শকের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউব ও টিআরপিতেও নাটকটি ধরে রেখেছে তার অবস্থান। শুধু গল্প নয়, নাটকের চরিত্রগুলোর নামও দর্শকের মুখে মুখে ফিরছে। বিশেষ করে হাবু, ‘মারজান’ কিংবা ‘সেকেন্ড চেয়ারম্যান’ নামগুলো এতটাই পরিচিত হয়ে উঠেছে যে, অনেক দর্শকের কাছে রাশেদ সীমান্ত, অহনা ও তানজিকা আমিনের প্রকৃত নামের চেয়ে নাটকের চরিত্রের নামই বেশি পরিচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি ধারাবাহিককে দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় রাখার রহস্য কী? জানতে চাইলে নাট্যকার আহসান আলমগীর বলেন, নাটকটির গল্পে বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়াই দর্শকের সঙ্গে এর সংযোগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ এই পথচলায় দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং প্রায় তিন বছর ধরে নাটকটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুভূতি কেমন, জানতে চাইলে আহসান আলমগীর বলেন, ফেসবুক ও ইউটিউবে শত শত, হাজার হাজার কমেন্ট আসে। সেগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগে। দর্শক নানা ধরনের পরামর্শও প্রদান করেন। গল্প কী হলে ভালো হবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন। আবার অনেক দর্শক ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, সেই নিয়েও আগাম পূর্বাভাস দেন। এই যে দর্শক এত লম্বা একটা ধারাবাহিকের সঙ্গে বছরের পর বছর কানেক্ট আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন নাটক রচনার সঙ্গে যুক্ত আহসান আলমগীর। ২০০৭ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে তাঁর লেখা নাটক। প্রায় দুই দশকের এই পথচলায় তাঁর রচনায় ৬৪টি ধারাবাহিক এবং ৪৫০টির বেশি একক নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছে।
তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকের তালিকায় রয়েছে আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, মেহমান, কমেডি ৪২০, ঘোড়ার ডিম, ঘটক বাকি ভাই, জামাই বাজার ও বউয়ের দোয়া পরিবহন’সহ আরও বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটক।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে আরটিভির প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক পাড়ার বিশ্বকাপ’ও। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকদের উন্মাদনা, পাড়ার মানুষের তর্ক-বিতর্ক ও নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল নাটকটি। আহসান আলমগীরের রচনায় এবং আল-হাজেনের পরিচালনায় নির্মিত ‘পাড়ার বিশ্বকাপ আরটিভিতে প্রতিদিন প্রচারিত হয়।
শুধু নাট্যকার হিসেবেই নয়, অভিনয়েও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি সংগঠক হিসেবেও নাট্যাঙ্গনে সক্রিয় আহসান আলমগীর। তিনি টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এফটিপিওর দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
হাবুর স্কলারশিপ-এর ৪০০ পর্ব পেরোনো এবং একই সময়ে নতুন নতুন ধারাবাহিকে যুক্ত থাকা আহসান আলমগীরের দীর্ঘ নাট্যযাত্রারই প্রতিফলন। গল্প, চরিত্র ও বাস্তবতার সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি করেই বছরের পর বছর এই পথচলা ধরে রেখেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন