রুপালি পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ছিল মুগ্ধতা ছড়ানোর মতো। অভিনয়, সৌন্দর্য আর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব দিয়ে একসময় বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন শবনম। আজ এই কিংবদন্তি চিত্রনায়িকার জন্মদিন।
১৯৪৬ সালের এই দিনে ঢাকার নবাবপুরে জন্মগ্রহণ করেন শবনম। তাঁর পারিবারিক নাম ঝর্ণা বসাক। ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। বাবার হাত ধরে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
১৯৫৯ সালে ‘এদেশ তোমার আমার’ ছবিতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম উপস্থিতি। এরপর ১৯৬০ সালের ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। তবে নায়িকা হিসেবে তাঁর বড় পরিচিতি আসে ১৯৬১ সালের ‘হারানো দিন’ ছবির মাধ্যমে। পরিচালক এহতেশামই তাঁকে ‘শবনম’ নামটি দেন। ছবিটি তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
এরপর ১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চান্দা’ ছবির মাধ্যমে উর্দু চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন শবনম। ছবিটি তাঁকে তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরের বছর ‘তালাশ’ ছবির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়েই তিনি পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯৬৮ সালে করাচিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন শবনম। এরপর দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেন। বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা দেড় শতাধিক। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিকবার নিগার পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও আবার অভিনয়ে ফেরেন শবনম। দেশে তাঁর অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে মান্নার মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই চরিত্রের কারণেই পরবর্তী সময়ে তিনি দর্শকের কাছে ‘আম্মাজান’ নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
শবনমের চলচ্চিত্রজীবন শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অবদান আজও স্মরণ করা হয়। রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও তাঁর অভিনীত চরিত্র ও চলচ্চিত্র এখনো দর্শকের কাছে নস্টালজিয়ার অংশ।
জন্মদিনে তাই কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীকে ঘিরে ফিরে আসে তাঁর দীর্ঘ সাফল্যময় ক্যারিয়ারের স্মৃতি। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শবনম শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
রুপালি পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ছিল মুগ্ধতা ছড়ানোর মতো। অভিনয়, সৌন্দর্য আর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব দিয়ে একসময় বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন শবনম। আজ এই কিংবদন্তি চিত্রনায়িকার জন্মদিন।
১৯৪৬ সালের এই দিনে ঢাকার নবাবপুরে জন্মগ্রহণ করেন শবনম। তাঁর পারিবারিক নাম ঝর্ণা বসাক। ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। বাবার হাত ধরে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
১৯৫৯ সালে ‘এদেশ তোমার আমার’ ছবিতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম উপস্থিতি। এরপর ১৯৬০ সালের ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। তবে নায়িকা হিসেবে তাঁর বড় পরিচিতি আসে ১৯৬১ সালের ‘হারানো দিন’ ছবির মাধ্যমে। পরিচালক এহতেশামই তাঁকে ‘শবনম’ নামটি দেন। ছবিটি তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
এরপর ১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চান্দা’ ছবির মাধ্যমে উর্দু চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন শবনম। ছবিটি তাঁকে তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরের বছর ‘তালাশ’ ছবির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়েই তিনি পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯৬৮ সালে করাচিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন শবনম। এরপর দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেন। বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা দেড় শতাধিক। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিকবার নিগার পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও আবার অভিনয়ে ফেরেন শবনম। দেশে তাঁর অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে মান্নার মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই চরিত্রের কারণেই পরবর্তী সময়ে তিনি দর্শকের কাছে ‘আম্মাজান’ নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
শবনমের চলচ্চিত্রজীবন শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অবদান আজও স্মরণ করা হয়। রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও তাঁর অভিনীত চরিত্র ও চলচ্চিত্র এখনো দর্শকের কাছে নস্টালজিয়ার অংশ।
জন্মদিনে তাই কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীকে ঘিরে ফিরে আসে তাঁর দীর্ঘ সাফল্যময় ক্যারিয়ারের স্মৃতি। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শবনম শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি।

আপনার মতামত লিখুন