ঢাকা, বাংলাদেশ    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
অগ্নিশিখা

সারাদেশ

জেলা নাজিরকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত জেলা নাজির মো. কামরূল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যমে জেলা নাজির ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব তথ্যের অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন মো. কামরূল ইসলাম।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে বন্দর উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলামকে ঘিরে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিক্রির অভিযোগও উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং পরবর্তী আইনি অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ভূমি অফিস ও বন্দর থানা পুলিশের তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপের পর কথিতভাবে জমির অর্থ ফেরত এবং ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে এ দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে জেলা নাজির মো. কামরূল ইসলামের অভিযোগ, অতীতের এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত কিছু কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগও তিনি করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।মো. কামরূল ইসলাম বলেন, “আমি সরকারের একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল। আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি মহল মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। এসব অপপ্রচারে আমি বিচলিত নই।”তিনি আরও বলেন, “আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমি অতি শিগগিরই আইনের আশ্রয় নেব। অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালসহ যারা মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মানহানি ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অন্যদিকে, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে বন্দর থানায় একাধিক মামলা থাকার দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বন্দর থানায় ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় আরও একটি মামলার তথ্য থাকার দাবিও করা হয়েছে।তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।জেলা নাজিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রচার করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করে না, বরং আইনগত জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

জেলা নাজিরকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি