শুদ্ধ নৃত্যচর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত স্বর্ণ মুকুট নৃত্যরত্ন পুরস্কার-২০২৫ এর প্রথম আসরের পর্দা নামল জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে। চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতা করে এক হাজারের বেশি নৃত্যশিল্পী। তাদের মধ্য থেকে পাঁচজন অর্জন করেছেন চ্যাম্পিয়নের মুকুট। বিজয়ীদের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় স্বর্ণের মুকুট।
গত ১০ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল রেড কার্পেট, তারকাদের উপস্থিতি এবং দেশের গুণী নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
প্রতিযোগিতার ‘খ’ শাখায় যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাবিহা ইয়াসমিন সোহা ও লামিয়া জেসমিন দিঘী। ‘গ’ শাখায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আলবিরা জামান আলভী ও নুসরাত সরকার সৃষ্টি। আর ‘ঘ’ শাখায় একমাত্র পুরুষ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মুকুট জিতেছেন এস এম মোমিনুল ইসলাম সৈকত। চারটি বিভাগে মোট পাঁচজন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এবারের আসরে তাদের মাথায় ওঠে স্বর্ণ মুকুট।
শুধু চ্যাম্পিয়নদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করতে না পারা প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পীদের উৎসাহ দিতে প্রায় ৪০ জনকে দেওয়া হয় ‘সপ্তরত্ন পুরস্কার’। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে আরও ১২০ জন প্রতিযোগীকে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সম্মাননা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে জাতীয় কচিকাঁচা মেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার মূল পর্ব। এতে সারাদেশ থেকে এক হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে অংশ নেয়। দেশের নৃত্য, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় ৬৫ জন গুণী বিচারক প্রতিযোগীদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন।
প্রথম আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিল তারকাদের সরব উপস্থিতি। চ্যাম্পিয়নদের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্য পরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন, অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী, আনিকা কবির শখ, বিজরী বরকতউল্লাহ, কবির বকুল, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, চাঁদনী, বুশরা কবির এবং সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবরিনা শফী নিসা, মাহনূর মেহবুবা চাঁদনী, শায়লা আহমেদ লিমা, তান্না খান, দিয়া শিশু একাডেমির মহাপরিচালক হুমায়ুন কবির, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাজু আলীম, নৃত্যশিল্পী উপমা, আসাদ খান, মোহনা মিম, রুহিসহ নৃত্য ও অভিনয় অঙ্গনের আরও অনেকে। পুরো আয়োজনের রেড কার্পেট উপস্থাপনায় ছিলেন কিবরিয়া চঞ্চল ও তমা রশিদ।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তামান্না রহমান, তান্না খান, মন্দিরা চক্রবর্তী, মিম চৌধুরী, সিনথিয়া ইয়াসমিন, লায়লা ইয়াসমিন লাবণ্য, নিলুফার ওয়াহিদ পাপড়ি, রুহি, ইচ্ছা, রিদি শেখ, মারিয়া ফারিয়া উপমা, কিবরিয়া চঞ্চল, আসাদ খান, মেহজাবিন চৌধুরী, সাবিলা নূর, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, পারসা ইভানা, এমআর ওয়াসেক, সোহেল রহমান, শায়লা আহমেদ লিমা, শাওন শান, জাহিদুল ইসলাম সানি, অমিত চৌধুরী, রবিউল ইসলাম স্বপন, কচি রহমান, মোহনা মিমসহ আরও অনেকে।
আয়োজনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্য কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘স্কুল-কলেজের প্রত্যেকটি জায়গায় নাচের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক, এটাই আমার চাওয়া। সাংস্কৃতিক বিকাশের এমন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা যখন নাচ, গান ও ছবি আঁকা শিখবে, তখন তারা খারাপ কিছু করার কথা ভাববে না। শিল্পীরা এমন মানুষ, যারা খারাপ কিছু ভাবতে বা করতে পারে না।’
নৃত্যচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নাচ শেখার আগ্রহ কিছুটা কম দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকার ছেলে-মেয়েরা এ ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। ঢাকার বাইরের ছেলে-মেয়েরা বরং বেশি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানদের নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার।
ইভান শাহরিয়ার সোহাগ আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে আমার এই প্রচেষ্টা এমনভাবে চালিয়ে যেতে চাই, যাতে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলমান থাকে।
সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি শুদ্ধ নৃত্যচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ইভেন্ট পার্টনার ছিল ব্লু বার্ড এবং জুয়েলারি পার্টনার পলাশ জুয়েলার্স।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
শুদ্ধ নৃত্যচর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত স্বর্ণ মুকুট নৃত্যরত্ন পুরস্কার-২০২৫ এর প্রথম আসরের পর্দা নামল জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে। চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতা করে এক হাজারের বেশি নৃত্যশিল্পী। তাদের মধ্য থেকে পাঁচজন অর্জন করেছেন চ্যাম্পিয়নের মুকুট। বিজয়ীদের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় স্বর্ণের মুকুট।
গত ১০ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল রেড কার্পেট, তারকাদের উপস্থিতি এবং দেশের গুণী নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
প্রতিযোগিতার ‘খ’ শাখায় যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাবিহা ইয়াসমিন সোহা ও লামিয়া জেসমিন দিঘী। ‘গ’ শাখায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আলবিরা জামান আলভী ও নুসরাত সরকার সৃষ্টি। আর ‘ঘ’ শাখায় একমাত্র পুরুষ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মুকুট জিতেছেন এস এম মোমিনুল ইসলাম সৈকত। চারটি বিভাগে মোট পাঁচজন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এবারের আসরে তাদের মাথায় ওঠে স্বর্ণ মুকুট।
শুধু চ্যাম্পিয়নদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করতে না পারা প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পীদের উৎসাহ দিতে প্রায় ৪০ জনকে দেওয়া হয় ‘সপ্তরত্ন পুরস্কার’। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে আরও ১২০ জন প্রতিযোগীকে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সম্মাননা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে জাতীয় কচিকাঁচা মেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার মূল পর্ব। এতে সারাদেশ থেকে এক হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে অংশ নেয়। দেশের নৃত্য, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় ৬৫ জন গুণী বিচারক প্রতিযোগীদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন।
প্রথম আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিল তারকাদের সরব উপস্থিতি। চ্যাম্পিয়নদের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্য পরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন, অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী, আনিকা কবির শখ, বিজরী বরকতউল্লাহ, কবির বকুল, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, চাঁদনী, বুশরা কবির এবং সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবরিনা শফী নিসা, মাহনূর মেহবুবা চাঁদনী, শায়লা আহমেদ লিমা, তান্না খান, দিয়া শিশু একাডেমির মহাপরিচালক হুমায়ুন কবির, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাজু আলীম, নৃত্যশিল্পী উপমা, আসাদ খান, মোহনা মিম, রুহিসহ নৃত্য ও অভিনয় অঙ্গনের আরও অনেকে। পুরো আয়োজনের রেড কার্পেট উপস্থাপনায় ছিলেন কিবরিয়া চঞ্চল ও তমা রশিদ।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তামান্না রহমান, তান্না খান, মন্দিরা চক্রবর্তী, মিম চৌধুরী, সিনথিয়া ইয়াসমিন, লায়লা ইয়াসমিন লাবণ্য, নিলুফার ওয়াহিদ পাপড়ি, রুহি, ইচ্ছা, রিদি শেখ, মারিয়া ফারিয়া উপমা, কিবরিয়া চঞ্চল, আসাদ খান, মেহজাবিন চৌধুরী, সাবিলা নূর, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, পারসা ইভানা, এমআর ওয়াসেক, সোহেল রহমান, শায়লা আহমেদ লিমা, শাওন শান, জাহিদুল ইসলাম সানি, অমিত চৌধুরী, রবিউল ইসলাম স্বপন, কচি রহমান, মোহনা মিমসহ আরও অনেকে।
আয়োজনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্য কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘স্কুল-কলেজের প্রত্যেকটি জায়গায় নাচের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক, এটাই আমার চাওয়া। সাংস্কৃতিক বিকাশের এমন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা যখন নাচ, গান ও ছবি আঁকা শিখবে, তখন তারা খারাপ কিছু করার কথা ভাববে না। শিল্পীরা এমন মানুষ, যারা খারাপ কিছু ভাবতে বা করতে পারে না।’
নৃত্যচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নাচ শেখার আগ্রহ কিছুটা কম দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকার ছেলে-মেয়েরা এ ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। ঢাকার বাইরের ছেলে-মেয়েরা বরং বেশি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানদের নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার।
ইভান শাহরিয়ার সোহাগ আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে আমার এই প্রচেষ্টা এমনভাবে চালিয়ে যেতে চাই, যাতে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলমান থাকে।
সোহাগ ড্যান্স ট্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি শুদ্ধ নৃত্যচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ইভেন্ট পার্টনার ছিল ব্লু বার্ড এবং জুয়েলারি পার্টনার পলাশ জুয়েলার্স।

আপনার মতামত লিখুন