ঢাকা, বাংলাদেশ    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
অগ্নিশিখা

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি, চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন



র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি, চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত


এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভেটিং শেষে বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, র‍্যাবের বিদ্যমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালাও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এসআরবির কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অন্য আইনে যা-ই থাকুক, এসআরবির একজন কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে র‍্যাব গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘ক্রসফায়ার’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়। কক্সবাজারের একরামুল হক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটিও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল। এবার সেই প্রস্তাবই আইনি কাঠামোয় বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি, চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image


এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভেটিং শেষে বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, র‍্যাবের বিদ্যমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালাও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এসআরবির কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অন্য আইনে যা-ই থাকুক, এসআরবির একজন কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে র‍্যাব গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘ক্রসফায়ার’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়। কক্সবাজারের একরামুল হক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটিও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল। এবার সেই প্রস্তাবই আইনি কাঠামোয় বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত