বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামটি উচ্চারিত হলে যে কজন শিল্পীর কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে পড়ে, তাদের অন্যতম বুলবুল আহমেদ। অভিনয়ের মেধা, ব্যক্তিত্ব আর পর্দায় অনন্য উপস্থিতি দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রজন্মের স্বপ্নের নায়ক। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন।
১৯৩৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মনাম ছিল তাবাররুক আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পাশাপাশি নাট্যকার ও অভিনেতা। ঘরোয়া নাটকের মহড়া দেখতেই অভিনয়ের প্রতি জন্ম নেয় তার গভীর অনুরাগ।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও সিলেট এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বুলবুল আহমেদ। কর্মজীবনের শুরু ব্যাংকার হিসেবে হলেও শিল্পের টান শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে আসে অভিনয়ের জগতে।
১৯৬৪ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের বরফ গলা নদী নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক নাটকে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। ১৯৭২ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি চলচ্চিত্রে যোগ দেন এবং পরের বছর ইয়ে করে বিয়ে সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে।
তার অভিনীত অঙ্গীকার, ধীরে বহে মেঘনা, রূপালী সৈকতে, সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা ও জন্ম থেকে জ্বলছি বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলামের দেবদাস চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় তাকে এনে দেয় কিংবদন্তির মর্যাদা। সেখান থেকেই দর্শকের কাছে তিনি ‘মহানায়ক’ হিসেবে অমর হয়ে থাকেন।
প্রায় ৪৪ বছরের ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ দুই শতাধিক চলচ্চিত্র ও প্রায় ৩০০ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনাতেও সফল ছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
জন্মদিনে এই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতাকে স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গন ও তার অগণিত ভক্ত।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামটি উচ্চারিত হলে যে কজন শিল্পীর কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে পড়ে, তাদের অন্যতম বুলবুল আহমেদ। অভিনয়ের মেধা, ব্যক্তিত্ব আর পর্দায় অনন্য উপস্থিতি দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রজন্মের স্বপ্নের নায়ক। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন।
১৯৩৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মনাম ছিল তাবাররুক আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পাশাপাশি নাট্যকার ও অভিনেতা। ঘরোয়া নাটকের মহড়া দেখতেই অভিনয়ের প্রতি জন্ম নেয় তার গভীর অনুরাগ।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও সিলেট এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বুলবুল আহমেদ। কর্মজীবনের শুরু ব্যাংকার হিসেবে হলেও শিল্পের টান শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে আসে অভিনয়ের জগতে।
১৯৬৪ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের বরফ গলা নদী নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক নাটকে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। ১৯৭২ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি চলচ্চিত্রে যোগ দেন এবং পরের বছর ইয়ে করে বিয়ে সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে।
তার অভিনীত অঙ্গীকার, ধীরে বহে মেঘনা, রূপালী সৈকতে, সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা ও জন্ম থেকে জ্বলছি বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলামের দেবদাস চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় তাকে এনে দেয় কিংবদন্তির মর্যাদা। সেখান থেকেই দর্শকের কাছে তিনি ‘মহানায়ক’ হিসেবে অমর হয়ে থাকেন।
প্রায় ৪৪ বছরের ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ দুই শতাধিক চলচ্চিত্র ও প্রায় ৩০০ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনাতেও সফল ছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
জন্মদিনে এই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতাকে স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গন ও তার অগণিত ভক্ত।

আপনার মতামত লিখুন