ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

খুলনায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ



খুলনায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার হরিণটানা থানাধীন রায়েরমহল হামিদনগর এলাকায় তিন শতক জমি দখলচেষ্টা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জমির মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিক দাবি করা ফয়জুল আমিন খান তার আপন চাচাতো ভাই শাহিন খানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি হরিণটানা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফয়জুল আমিন খানের পিতা মরহুম রুহুল আমিন খান ২০০৪ সালে উজান সমিতির কাছ থেকে শাহিন খানকে সঙ্গে নিয়ে মোট ১০ শতক জমি কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ক্রয়ের সময় উভয়েই ৫ শতক করে জমির মালিকানা লাভ করেন।

পরবর্তীতে জমিটি তিনটি প্লটে ভাগ করা হয়। প্রথম প্লটে দুই শতক জমি উভয় পক্ষ দোকান নির্মাণের জন্য সংরক্ষণ করেন। দ্বিতীয় অংশে চার শতক করে নিজ নিজ জমি দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে ওই জমির মধ্যে দুই শতক খাস জমি হিসেবে চলে যায়। এছাড়া সরকারি রাস্তা নির্মাণের সময় রুহুল আমিনের অংশ থেকে এক শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উভয় পক্ষ গ্রহণ করেন।

ফয়জুল আমিন খানের দাবি, এসব পরিবর্তনের পর তার নামে অবশিষ্ট তিন শতক জমি ফাঁকা অবস্থায় ছিল।

দখলচেষ্টার অভিযোগ : অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরির সুবাদে ফয়জুল আমিন দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করায় তার ফাঁকা তিন শতক জমিতে শাহিন খান পাকা দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ফয়জুল আমিন জানান, তার জমির ২০২৬ সালের হালনাগাদ খাজনা পরিশোধ করা রয়েছে এবং জমিটি চার ওয়ারিশের নামে মিউটেশনভুক্ত।

আদালতের শরণাপন্ন : স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুইূদফা শালিশ বৈঠক হলেও উক্ত শালিশ গনের রায় না মানায় ফয়জুল আমিন খান এক প্রকার বাধ্য হয়ে গত ২৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে আদালতে একটি এমপি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে হরিণটানা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মামুন হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে ৩০ জুন ২০২৬ আদালতে ফয়জুল আমিনের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত শাহিন খানকে অন্যের জমিতে অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

হত্যার হুমকির অভিযোগে জিডি : মামলা দায়েরের পর থেকেই বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফয়জুল আমিন। তিনি বলেন“জমি নিয়ে উচ্চবাচ্য বা বাড়াবাড়ি করলে তাকে মেরে ফেলা হবে”— এমন হুমকির প্রেক্ষিতে তিনি গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ হরিণটানা থানায় জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সামাজিক ও আইনগতভাবে তার তিন শতক জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অপরদিকে অভিযুক্ত শাহিন খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার চাচাতো ভাই ফয়জুল আমিন খানের কোনো জমি আমি আত্মসাৎ করিনি।”

তবে আদালতের নির্দেশের পর স্থাপনার কাজ কেন বন্ধ করেছেন— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর একাধিক বার তাকে ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার হরিণটানা থানাধীন রায়েরমহল হামিদনগর এলাকায় তিন শতক জমি দখলচেষ্টা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জমির মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিক দাবি করা ফয়জুল আমিন খান তার আপন চাচাতো ভাই শাহিন খানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি হরিণটানা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফয়জুল আমিন খানের পিতা মরহুম রুহুল আমিন খান ২০০৪ সালে উজান সমিতির কাছ থেকে শাহিন খানকে সঙ্গে নিয়ে মোট ১০ শতক জমি কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ক্রয়ের সময় উভয়েই ৫ শতক করে জমির মালিকানা লাভ করেন।

পরবর্তীতে জমিটি তিনটি প্লটে ভাগ করা হয়। প্রথম প্লটে দুই শতক জমি উভয় পক্ষ দোকান নির্মাণের জন্য সংরক্ষণ করেন। দ্বিতীয় অংশে চার শতক করে নিজ নিজ জমি দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে ওই জমির মধ্যে দুই শতক খাস জমি হিসেবে চলে যায়। এছাড়া সরকারি রাস্তা নির্মাণের সময় রুহুল আমিনের অংশ থেকে এক শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উভয় পক্ষ গ্রহণ করেন।

ফয়জুল আমিন খানের দাবি, এসব পরিবর্তনের পর তার নামে অবশিষ্ট তিন শতক জমি ফাঁকা অবস্থায় ছিল।

দখলচেষ্টার অভিযোগ : অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরির সুবাদে ফয়জুল আমিন দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করায় তার ফাঁকা তিন শতক জমিতে শাহিন খান পাকা দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ফয়জুল আমিন জানান, তার জমির ২০২৬ সালের হালনাগাদ খাজনা পরিশোধ করা রয়েছে এবং জমিটি চার ওয়ারিশের নামে মিউটেশনভুক্ত।

আদালতের শরণাপন্ন : স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুইূদফা শালিশ বৈঠক হলেও উক্ত শালিশ গনের রায় না মানায় ফয়জুল আমিন খান এক প্রকার বাধ্য হয়ে গত ২৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে আদালতে একটি এমপি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে হরিণটানা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মামুন হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে ৩০ জুন ২০২৬ আদালতে ফয়জুল আমিনের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত শাহিন খানকে অন্যের জমিতে অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

হত্যার হুমকির অভিযোগে জিডি : মামলা দায়েরের পর থেকেই বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফয়জুল আমিন। তিনি বলেন“জমি নিয়ে উচ্চবাচ্য বা বাড়াবাড়ি করলে তাকে মেরে ফেলা হবে”— এমন হুমকির প্রেক্ষিতে তিনি গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ হরিণটানা থানায় জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সামাজিক ও আইনগতভাবে তার তিন শতক জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অপরদিকে অভিযুক্ত শাহিন খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার চাচাতো ভাই ফয়জুল আমিন খানের কোনো জমি আমি আত্মসাৎ করিনি।”

তবে আদালতের নির্দেশের পর স্থাপনার কাজ কেন বন্ধ করেছেন— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর একাধিক বার তাকে ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত