ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘উৎসবে, গর্বে, দায়িত্বে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ এই চলচ্চিত্র আয়োজন। উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’, যা উৎসবের সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির দেশপ্রেম, মানবিকতা ও কল্যাণবোধ গড়ে তোলার শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি বলেন, একসময় সারাদেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ডিজিটাল যুগে দর্শকের রুচি ও দেখার অভ্যাস বদলেছে, তাই সময়োপযোগী ও মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প তার অনেক জৌলুস হারিয়েছে। হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে, যাতে দর্শক আবারও ভালো সিনেমার মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহমুখী হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে আছে। সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দেশ-বিদেশে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। তিনি নগরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মধুমিতা হলে এসে বিনামূল্যে সিনেমা দেখার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসব উপলক্ষে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৫৮ জন গুণী শিল্পী, পরিচালক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার, চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। জীবন্ত কিংবদন্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুজাতা, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা, শাবনাজ, সোহেল রানা, আলমগীর, উজ্জ্বল, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির, খুরশিদ আলম, আবিদা সুলতানা, শেখ সাদী খান, শওকত আলী ইমন, রেজা লতিফ ও শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন নায়করাজ রাজ্জাক, জহির রায়হান, খান আতাউর রহমান, চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, বুলবুল আহমেদ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আলাউদ্দীন আলী, আজম খান, এন্ড্রু কিশোরসহ চলচ্চিত্রের বহু কিংবদন্তি।
২৩ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে। সূচিতে রয়েছে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নান্টু ঘটক’, ‘অশিক্ষিত’, ‘রংবাজ’, ‘সবুজ সাথী’, ‘নাচের পুতুল’, ‘দূরদেশ’, ‘দহন’, ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সমাপনী প্রদর্শনী ‘বধূ বিদায়’। সাত দিনের এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকার চলচ্চিত্র ঐতিহ্য নতুন করে দর্শকের সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘উৎসবে, গর্বে, দায়িত্বে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ এই চলচ্চিত্র আয়োজন। উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’, যা উৎসবের সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির দেশপ্রেম, মানবিকতা ও কল্যাণবোধ গড়ে তোলার শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি বলেন, একসময় সারাদেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ডিজিটাল যুগে দর্শকের রুচি ও দেখার অভ্যাস বদলেছে, তাই সময়োপযোগী ও মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প তার অনেক জৌলুস হারিয়েছে। হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে, যাতে দর্শক আবারও ভালো সিনেমার মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহমুখী হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে আছে। সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দেশ-বিদেশে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। তিনি নগরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মধুমিতা হলে এসে বিনামূল্যে সিনেমা দেখার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসব উপলক্ষে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৫৮ জন গুণী শিল্পী, পরিচালক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার, চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। জীবন্ত কিংবদন্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুজাতা, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা, শাবনাজ, সোহেল রানা, আলমগীর, উজ্জ্বল, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির, খুরশিদ আলম, আবিদা সুলতানা, শেখ সাদী খান, শওকত আলী ইমন, রেজা লতিফ ও শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন নায়করাজ রাজ্জাক, জহির রায়হান, খান আতাউর রহমান, চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, বুলবুল আহমেদ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আলাউদ্দীন আলী, আজম খান, এন্ড্রু কিশোরসহ চলচ্চিত্রের বহু কিংবদন্তি।
২৩ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে। সূচিতে রয়েছে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নান্টু ঘটক’, ‘অশিক্ষিত’, ‘রংবাজ’, ‘সবুজ সাথী’, ‘নাচের পুতুল’, ‘দূরদেশ’, ‘দহন’, ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সমাপনী প্রদর্শনী ‘বধূ বিদায়’। সাত দিনের এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকার চলচ্চিত্র ঐতিহ্য নতুন করে দর্শকের সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা আয়োজকদের।

আপনার মতামত লিখুন