ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

১২ কোটি টাকার কাঁচাবাজার অচল, সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীদের আড্ডা



১২ কোটি টাকার কাঁচাবাজার অচল, সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীদের আড্ডা

মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাজার ভবনটি অচল পড়ে থাকায় একদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান যন্ত্রপাতি। সন্ধ্যা নামলেই ভবনটির বিভিন্ন নির্জন স্থানে বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌর কাঁচাবাজারের আড়তদার মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, বাজারটি চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্ধ থাকায় বাজারের মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে। রাত হলেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ফলে বাজারটি অনেকটা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বাজারটি চালু করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় বাজার ভবনটি অনেকটা ফাঁকা পড়ে থাকে। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ভবনের বিভিন্ন কোণ ও নির্জন স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

বাজারটি দীর্ঘদিনেও কেন চালু হয়নি, জানতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সচিব রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

তবে সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, বাজার ভবনটি দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনটি যাতে মাদকসেবীরা ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, শহরের যানজট কমানো, বাজার ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক এই কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বাজারটি কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন অচল থাকায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়, এবার কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারটি দ্রুত চালু করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই বাজারটি দ্রুত সচল করা না গেলে জনসেবার উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনাটি শেষ পর্যন্ত একটি ব্যর্থ প্রকল্পের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১২ কোটি টাকার কাঁচাবাজার অচল, সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীদের আড্ডা

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাজার ভবনটি অচল পড়ে থাকায় একদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান যন্ত্রপাতি। সন্ধ্যা নামলেই ভবনটির বিভিন্ন নির্জন স্থানে বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌর কাঁচাবাজারের আড়তদার মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, বাজারটি চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্ধ থাকায় বাজারের মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে। রাত হলেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ফলে বাজারটি অনেকটা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বাজারটি চালু করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় বাজার ভবনটি অনেকটা ফাঁকা পড়ে থাকে। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ভবনের বিভিন্ন কোণ ও নির্জন স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

বাজারটি দীর্ঘদিনেও কেন চালু হয়নি, জানতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সচিব রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

তবে সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, বাজার ভবনটি দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনটি যাতে মাদকসেবীরা ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, শহরের যানজট কমানো, বাজার ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক এই কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বাজারটি কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন অচল থাকায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়, এবার কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারটি দ্রুত চালু করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই বাজারটি দ্রুত সচল করা না গেলে জনসেবার উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনাটি শেষ পর্যন্ত একটি ব্যর্থ প্রকল্পের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত