ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

আড়াইহাজারে মাকে হত্যার অভিযোগে সাড়ে চার বছর পর মেয়ে গ্রেপ্তার



আড়াইহাজারে মাকে হত্যার অভিযোগে সাড়ে চার বছর পর মেয়ে গ্রেপ্তার
ছবি: প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিধবা নুরুন্নাহার বেগম (৬৫) হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর তাঁর মেয়ে আয়েশা আক্তার রানু (৪৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসার পর আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বিনাইরচর এলাকা থেকে আড়াইহাজার থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। 

নিহত নুরুন্নাহার বেগম ওই এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে নুরুন্নাহার বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরদিন নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ নিহতের মেয়ে আয়েশা আক্তার রানুসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। তবে সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একই ঘটনায় নিহতের ছেলে কবির হোসেনকেও সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য সামনে আসে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তীকালে মামলাটির তদন্তভার অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি হত্যাকাণ্ডে আয়েশা আক্তার রানুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় রানু দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গেই বসবাস করতেন। তাঁদের ধারণা, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও বিষয়টির প্রকৃত কারণ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, “সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পর এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আড়াইহাজারে মাকে হত্যার অভিযোগে সাড়ে চার বছর পর মেয়ে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিধবা নুরুন্নাহার বেগম (৬৫) হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর তাঁর মেয়ে আয়েশা আক্তার রানু (৪৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসার পর আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বিনাইরচর এলাকা থেকে আড়াইহাজার থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। 

নিহত নুরুন্নাহার বেগম ওই এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে নুরুন্নাহার বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরদিন নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ নিহতের মেয়ে আয়েশা আক্তার রানুসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। তবে সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একই ঘটনায় নিহতের ছেলে কবির হোসেনকেও সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য সামনে আসে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তীকালে মামলাটির তদন্তভার অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি হত্যাকাণ্ডে আয়েশা আক্তার রানুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় রানু দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গেই বসবাস করতেন। তাঁদের ধারণা, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও বিষয়টির প্রকৃত কারণ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, “সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পর এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত