ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

‎শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরির দাবি সাইফুল হকের



‎শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরির দাবি সাইফুল হকের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ এবং তাঁদের বকেয়া অধিকার ও মর্যাদার কথা তুলে ধরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকরা ছাত্রদের মতো ক্ষমতার ভাগ চায়নি, কেবল নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা চেয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছরেও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের বাঁচার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

‎আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি'র উদ্যোগে আয়োজিত '২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‎অবিলম্বে নতুন বেতন স্কেলের সাথে ভারসাম্য রেখে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‎সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী আগে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল। মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না। শ্রমিকের বাঁচার আন্দোলন কোনো চক্রান্ত নয়। নতুন বিএনপি সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার।

‎আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য সামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‎দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। এই বিপুল জনসংখ্যার অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আইএলও সনদে স্বাক্ষর করেছে, ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ গণতান্ত্রিক দাবি পূরণে সরকার ও মালিকপক্ষ বাধ্য। সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সংসদের ভেতরেও শ্রমিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকব।

‎বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণি ভোটের অধিকার পেলেও গত দুই বছরে শোষণ ও বৈষম্য আরও বেড়েছে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। লড়াইয়ের পথ ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎উক্ত আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ১৫ দফা দাবি পেশ করেন।

‎বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ‎বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ‎বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আল মামুন মোল্লা, ‎নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মাস্টার, সরকারি প্রিন্টিং শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেনসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

‎‎অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ শ্রমিক বদিউজ্জামান ও আবদুল লতিফসহ সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরির দাবি সাইফুল হকের

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ এবং তাঁদের বকেয়া অধিকার ও মর্যাদার কথা তুলে ধরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকরা ছাত্রদের মতো ক্ষমতার ভাগ চায়নি, কেবল নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা চেয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছরেও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের বাঁচার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

‎আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি'র উদ্যোগে আয়োজিত '২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‎অবিলম্বে নতুন বেতন স্কেলের সাথে ভারসাম্য রেখে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‎সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী আগে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল। মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না। শ্রমিকের বাঁচার আন্দোলন কোনো চক্রান্ত নয়। নতুন বিএনপি সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার।

‎আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য সামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‎দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। এই বিপুল জনসংখ্যার অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আইএলও সনদে স্বাক্ষর করেছে, ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ গণতান্ত্রিক দাবি পূরণে সরকার ও মালিকপক্ষ বাধ্য। সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সংসদের ভেতরেও শ্রমিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকব।

‎বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণি ভোটের অধিকার পেলেও গত দুই বছরে শোষণ ও বৈষম্য আরও বেড়েছে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। লড়াইয়ের পথ ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎উক্ত আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ১৫ দফা দাবি পেশ করেন।

‎বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ‎বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ‎বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আল মামুন মোল্লা, ‎নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মাস্টার, সরকারি প্রিন্টিং শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেনসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

‎‎অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ শ্রমিক বদিউজ্জামান ও আবদুল লতিফসহ সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত