ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

মানুষের আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে: মাহমুদুর রহমান মান্না



মানুষের আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে: মাহমুদুর রহমান মান্না

বিএনপি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকারের চার মাসের মধ্যেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছি। দ্রব্যমূল্য কমলোই না। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছুতেই অশনিসংকেত। এখন মানুষ যেভাবে চায়, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভাটি একপর্যায়ে রাজনীতিবিদদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে একটি ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতারা আহ্বানের জবাবে মান্না বলেন, এখন সময় এসেছে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার। বড় দলগুলো যখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তখন তারা ছোটদের গুরুত্ব দেয় না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পাঁচ বছর পর আরেকটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যাতে মুক্তির চেতনা নিয়ে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। বড় দলের জোটে থেকে নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে মানুষের কাছে যাওয়া বেশি জরুরি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না সরকারের প্রথম বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাজেটের সময় বলা হলো কর বাড়ানো হবে না, অথচ এখন কর বাড়াচ্ছেন। তার মানে সরকারের কাছে টাকা নেই। মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করে রাষ্ট্র চালানোর এমন বড়লোকির বাজেটের প্রয়োজন ছিল না।

নাগরিক ঐক্যের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের প্রতি তাদের অন্ধ ভালোবাসা নেই, তাদের ভালোবাসা কেবল জনগণের প্রতি। জনগণ বা দেশের স্বার্থে যার কাছে যাওয়া দরকার তারা যাবেন, তবে কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে নাগরিক ঐক্য তাদের পাশে থাকবে না।

নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দেশের সব সংকট মোকাবিলায় সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এমপি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করা এবং নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খুবই কঠিন। এ জন্য ধৈর্যের সঙ্গে সবকিছু পরিচালনা করতে হবে।

তিনি সরকারকে সব প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব ধৈর্যের সঙ্গে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ধৈর্যহীন হয়ে কঠোর জবাব দিতে চাইলে অতীতের মতোই সংকটে পড়তে হবে।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সরকার এর আগে এতটা অজনপ্রিয় হয়নি এবং এত দ্রুত কোনো সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ-মিছিল নামেনি। তাই সরকারকে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন এমপি অভিযোগ করেন, সরকার প্রথম দিন থেকেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে। নাগরিকদের কল্যাণে গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের ওপর এখনো মানুষের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে। তারা অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ততটা স্কোর করতে পারছে না। সরকার ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, গণফোরামের ডা. মিজানুর রহমান, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির ড. আবু ইউসুফ সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।

সভার শুরুতে নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন দলের নেতারা। আলোচনা সভা শেষে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মানুষের আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে: মাহমুদুর রহমান মান্না

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

বিএনপি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকারের চার মাসের মধ্যেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছি। দ্রব্যমূল্য কমলোই না। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছুতেই অশনিসংকেত। এখন মানুষ যেভাবে চায়, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভাটি একপর্যায়ে রাজনীতিবিদদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে একটি ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতারা আহ্বানের জবাবে মান্না বলেন, এখন সময় এসেছে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার। বড় দলগুলো যখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তখন তারা ছোটদের গুরুত্ব দেয় না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পাঁচ বছর পর আরেকটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যাতে মুক্তির চেতনা নিয়ে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। বড় দলের জোটে থেকে নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে মানুষের কাছে যাওয়া বেশি জরুরি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না সরকারের প্রথম বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাজেটের সময় বলা হলো কর বাড়ানো হবে না, অথচ এখন কর বাড়াচ্ছেন। তার মানে সরকারের কাছে টাকা নেই। মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করে রাষ্ট্র চালানোর এমন বড়লোকির বাজেটের প্রয়োজন ছিল না।

নাগরিক ঐক্যের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের প্রতি তাদের অন্ধ ভালোবাসা নেই, তাদের ভালোবাসা কেবল জনগণের প্রতি। জনগণ বা দেশের স্বার্থে যার কাছে যাওয়া দরকার তারা যাবেন, তবে কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে নাগরিক ঐক্য তাদের পাশে থাকবে না।

নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দেশের সব সংকট মোকাবিলায় সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এমপি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করা এবং নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খুবই কঠিন। এ জন্য ধৈর্যের সঙ্গে সবকিছু পরিচালনা করতে হবে।

তিনি সরকারকে সব প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব ধৈর্যের সঙ্গে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ধৈর্যহীন হয়ে কঠোর জবাব দিতে চাইলে অতীতের মতোই সংকটে পড়তে হবে।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সরকার এর আগে এতটা অজনপ্রিয় হয়নি এবং এত দ্রুত কোনো সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ-মিছিল নামেনি। তাই সরকারকে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন এমপি অভিযোগ করেন, সরকার প্রথম দিন থেকেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে। নাগরিকদের কল্যাণে গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের ওপর এখনো মানুষের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে। তারা অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ততটা স্কোর করতে পারছে না। সরকার ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, গণফোরামের ডা. মিজানুর রহমান, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির ড. আবু ইউসুফ সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।

সভার শুরুতে নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন দলের নেতারা। আলোচনা সভা শেষে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত