ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা



গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ছবি: প্রতিনিধি

গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরের পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না, বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণ অধ্যায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান হলেও নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা, অপহরণ ও কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ড. আযাদ বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডি, গুম-খুন, বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার এখনও জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যার বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি জানান, ২১ জুন রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং আজকের জরুরি সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি

২৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা: রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ।

৪ জুলাই: দেশব্যাপী সকল জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মিরাজ খান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরের পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না, বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণ অধ্যায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান হলেও নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা, অপহরণ ও কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ড. আযাদ বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডি, গুম-খুন, বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার এখনও জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যার বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি জানান, ২১ জুন রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং আজকের জরুরি সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি

২৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা: রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ।

৪ জুলাই: দেশব্যাপী সকল জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মিরাজ খান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত