ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

কক্সবাজারের রামু উপজেলা

বিনোদনের আড়ালে ইয়াবার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ, আলোচনায় ‘টিকটক ইউনূস’



বিনোদনের আড়ালে ইয়াবার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ, আলোচনায় ‘টিকটক ইউনূস’

   ♦️অগ্নিশিখা অনুসন্ধান, পর্ব-০১♦️

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় ইউনূস ওরফে ‘টিকটক ইউনূস’-এর বিরুদ্ধে বিনোদন কর্মকাণ্ডের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় তিনি ‘টিকটক ইউনূস’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত গান, শর্টফিল্ম ও বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন নারীর অংশগ্রহণে এসব ভিডিও ধারণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালেই পরিচালিত হচ্ছে তার সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইউনূস ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক পাচার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে গাজীপুরে ইয়াবা পাচারের সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে কৌশল পরিবর্তন করে পুনরায় একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবা কারবার পরিচালনায় সহায়তার জন্য তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রীদের মধ্যে রোহিঙ্গা নারীও রয়েছেন এবং তাদের ব্যবহার করেই মাদক পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বর্তমানে তিনি রামু উপজেলার থোয়াইংগাকাটা ১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন। এর আগে পাঞ্জেগানা ছাগলিয়াকাটা এলাকায় তার বসতভিটা ছিল, যা তিনি কিছুদিন আগে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

থোয়াইংগাকাটা এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“ইউনূসের পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, সে উখিয়ার থাইংখালী এলাকা থেকে এসে এখানে জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকায় অনেক রোহিঙ্গাও বসবাস করছে। কে রোহিঙ্গা আর কে স্থানীয়, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনূস মুঠোফোনে বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই এ কারবারের সঙ্গে জড়িত। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মাদক কারবারি যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিনোদনের আড়ালে ইয়াবার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ, আলোচনায় ‘টিকটক ইউনূস’

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

   ♦️অগ্নিশিখা অনুসন্ধান, পর্ব-০১♦️

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় ইউনূস ওরফে ‘টিকটক ইউনূস’-এর বিরুদ্ধে বিনোদন কর্মকাণ্ডের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় তিনি ‘টিকটক ইউনূস’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত গান, শর্টফিল্ম ও বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন নারীর অংশগ্রহণে এসব ভিডিও ধারণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালেই পরিচালিত হচ্ছে তার সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইউনূস ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক পাচার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে গাজীপুরে ইয়াবা পাচারের সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে কৌশল পরিবর্তন করে পুনরায় একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবা কারবার পরিচালনায় সহায়তার জন্য তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রীদের মধ্যে রোহিঙ্গা নারীও রয়েছেন এবং তাদের ব্যবহার করেই মাদক পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বর্তমানে তিনি রামু উপজেলার থোয়াইংগাকাটা ১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন। এর আগে পাঞ্জেগানা ছাগলিয়াকাটা এলাকায় তার বসতভিটা ছিল, যা তিনি কিছুদিন আগে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

থোয়াইংগাকাটা এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“ইউনূসের পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, সে উখিয়ার থাইংখালী এলাকা থেকে এসে এখানে জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকায় অনেক রোহিঙ্গাও বসবাস করছে। কে রোহিঙ্গা আর কে স্থানীয়, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনূস মুঠোফোনে বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই এ কারবারের সঙ্গে জড়িত। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মাদক কারবারি যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত