ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ



সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ
ছবি: প্রতিনিধি

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করবে না। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং আগ্রাসী আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিকে ফেরত না দিয়ে ভারত জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বের পরিবর্তে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতের নীতির কারণে অতীতে উপমহাদেশে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানেও সীমান্ত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে পারে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ অভিযোগ করেন, সীমান্তে নিয়মিত হত্যাকাণ্ড ও পুশইনের ঘটনা ঘটলেও সরকার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তিনি এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং অন্যান্য বক্তারাও সীমান্ত পরিস্থিতি ও সরকারের পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সমাবেশ শেষে শাহবাগের শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনের উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করবে না। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং আগ্রাসী আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিকে ফেরত না দিয়ে ভারত জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বের পরিবর্তে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতের নীতির কারণে অতীতে উপমহাদেশে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানেও সীমান্ত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে পারে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ অভিযোগ করেন, সীমান্তে নিয়মিত হত্যাকাণ্ড ও পুশইনের ঘটনা ঘটলেও সরকার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তিনি এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং অন্যান্য বক্তারাও সীমান্ত পরিস্থিতি ও সরকারের পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সমাবেশ শেষে শাহবাগের শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনের উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত