ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে শাহবাগে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ সভা



‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে শাহবাগে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ সভা

‎বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের বৈধ ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আজ ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন’- ‘ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশ (বিএফএস)’- ডকল্যাব, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এবং দৃশ্যমাধ্যম সমাজ যৌথ ভাবে  আয়োজিত এই সমাবেশে চলচ্চিত্রকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী এবং সকল সচেতন নাগরিক শিল্পের স্বাধীন চর্চা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

‎সমাবেশের সূচনা পর্বে ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন এর সংগঠক ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ।

‎জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন-এর সংগঠক এডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, "জাতির মনন গঠনের মাধ্যম হচ্ছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। সাং স্কৃতিক কার্যক্রম রুখে দেয়ার যে অপচেষ্টা, আমরা সবসময় ই তার বিরুদ্ধে। আজকের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সেই অবস্থান ই আমরা ব্যক্ত করতে এসেছি।"

‎বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম ও ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশ (বিএফএস)-এর সভাপতি বলেন, "বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতার মুখোমুখি। তরুণ নির্মাতারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও দেশে প্রদর্শন ও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত। অথচ সৃজনশীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান—চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিকে উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে জেলা-উপজেলায় নিরাপদ প্রদর্শন পরিবেশ, স্বাধীন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হোক।

‎একইসঙ্গে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান—শিক্ষামূলক, নৈতিক ও ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়ে মাদ্রাসা ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা আয়োজন করুন। কারণ সংলাপ ও সংস্কৃতিচর্চা ভুল বোঝাবুঝি দূর করে এবং একটি উদার, জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে। মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, চলচ্চিত্র সংসদ ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে একটি আত্মবিশ্বাসী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

‎আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন “সৃজনশীলতাই নতুন চিন্তা, নতুন চিন্তার প্রকাশ ঘটে। কার স্বার্থে এগুলো বাধা দেয়া হয়? ডিসি কোন অশ্লীলতা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন বনলতা এক্সপ্রেস বন্ধের মধ্য দিয়ে তার ব্যাখ্যা তাকে দিতে হবে। সরকার এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তার মধ্য দিয়ে কাদের সমর্থন দিচ্ছে? “

‎অনুষ্ঠানে  ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি একটি "খোলা চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠিতে স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চার সাংবিধানিক সুরক্ষা ও কাঠামোগত সমাধানের দাবি জানানো হয়। খোলা চিঠি পাঠ শেষে উপস্থিত জনতা ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়, যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি হিসেবে প্রদান করা হবে।

‎আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিল্পের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং প্রান্তিক অঞ্চলে সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামীতে আরও বৃহত্তর পরিসরে দেশব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে শাহবাগে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ সভা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

‎বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের বৈধ ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আজ ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন’- ‘ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশ (বিএফএস)’- ডকল্যাব, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এবং দৃশ্যমাধ্যম সমাজ যৌথ ভাবে  আয়োজিত এই সমাবেশে চলচ্চিত্রকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী এবং সকল সচেতন নাগরিক শিল্পের স্বাধীন চর্চা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

‎সমাবেশের সূচনা পর্বে ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন এর সংগঠক ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ।

‎জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন-এর সংগঠক এডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, "জাতির মনন গঠনের মাধ্যম হচ্ছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। সাং স্কৃতিক কার্যক্রম রুখে দেয়ার যে অপচেষ্টা, আমরা সবসময় ই তার বিরুদ্ধে। আজকের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সেই অবস্থান ই আমরা ব্যক্ত করতে এসেছি।"

‎বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম ও ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশ (বিএফএস)-এর সভাপতি বলেন, "বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতার মুখোমুখি। তরুণ নির্মাতারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও দেশে প্রদর্শন ও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত। অথচ সৃজনশীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান—চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিকে উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে জেলা-উপজেলায় নিরাপদ প্রদর্শন পরিবেশ, স্বাধীন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হোক।

‎একইসঙ্গে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান—শিক্ষামূলক, নৈতিক ও ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়ে মাদ্রাসা ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা আয়োজন করুন। কারণ সংলাপ ও সংস্কৃতিচর্চা ভুল বোঝাবুঝি দূর করে এবং একটি উদার, জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে। মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, চলচ্চিত্র সংসদ ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে একটি আত্মবিশ্বাসী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

‎আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন “সৃজনশীলতাই নতুন চিন্তা, নতুন চিন্তার প্রকাশ ঘটে। কার স্বার্থে এগুলো বাধা দেয়া হয়? ডিসি কোন অশ্লীলতা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন বনলতা এক্সপ্রেস বন্ধের মধ্য দিয়ে তার ব্যাখ্যা তাকে দিতে হবে। সরকার এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তার মধ্য দিয়ে কাদের সমর্থন দিচ্ছে? “

‎অনুষ্ঠানে  ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি একটি "খোলা চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠিতে স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চার সাংবিধানিক সুরক্ষা ও কাঠামোগত সমাধানের দাবি জানানো হয়। খোলা চিঠি পাঠ শেষে উপস্থিত জনতা ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়, যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি হিসেবে প্রদান করা হবে।

‎আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিল্পের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং প্রান্তিক অঞ্চলে সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামীতে আরও বৃহত্তর পরিসরে দেশব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত