ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী হত্যা: নারীসহ দুই আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার টাকা ও মোবাইল



ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী হত্যা: নারীসহ দুই আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার টাকা ও মোবাইল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মোঃ হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ হারুন খালাসী (৪৬), পিতা-মৃত কাদের, মাতা-লুতফা বেগম, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা থানাধীন খান সাহেব আলী ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় হোসিয়ারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কারখানায় নগদ টাকা রাখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৯), পিতা-ওসমান সরদার, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোসাঃ মীম (২০), পিতা-মেছের আলী, মাতা-আমেনা, সাং-নাটোপাড়া, ইউনিয়ন-২নং জামাল ইউনিয়ন, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-ঝিনাইদহ, এ/পি সাং-স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে, ঐক্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র, ৭ম তলা ভবনের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং মোঃ রানা হোসেন (২৪), পিতা-মৃত দেলোয়ার মিস্ত্রি, মাতা-কমলা বেগম, সাং-রামকলা, থানা-নীলফামারী সদর, জেলা-নীলফামারী, এ/পি সাং-জালকুড়ি পূর্বপাড়া, জালকুড়ি হাই স্কুলের বাম পাশে, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।

পুলিশ জানায়, তারা দুজনই নিহতের হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষোভের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা হারুন খালাসীকে চায়ের সঙ্গে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। পরে কারখানায় থাকা হোসিয়ারি কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী হত্যা: নারীসহ দুই আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার টাকা ও মোবাইল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মোঃ হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ হারুন খালাসী (৪৬), পিতা-মৃত কাদের, মাতা-লুতফা বেগম, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা থানাধীন খান সাহেব আলী ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় হোসিয়ারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কারখানায় নগদ টাকা রাখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৯), পিতা-ওসমান সরদার, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোসাঃ মীম (২০), পিতা-মেছের আলী, মাতা-আমেনা, সাং-নাটোপাড়া, ইউনিয়ন-২নং জামাল ইউনিয়ন, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-ঝিনাইদহ, এ/পি সাং-স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে, ঐক্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র, ৭ম তলা ভবনের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং মোঃ রানা হোসেন (২৪), পিতা-মৃত দেলোয়ার মিস্ত্রি, মাতা-কমলা বেগম, সাং-রামকলা, থানা-নীলফামারী সদর, জেলা-নীলফামারী, এ/পি সাং-জালকুড়ি পূর্বপাড়া, জালকুড়ি হাই স্কুলের বাম পাশে, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।

পুলিশ জানায়, তারা দুজনই নিহতের হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষোভের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা হারুন খালাসীকে চায়ের সঙ্গে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। পরে কারখানায় থাকা হোসিয়ারি কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত