নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোঃ মোবারক মন্ডল (৪৭), পিতা- ইয়াছিন মন্ডল, মাতা- নুরজাহান, সাং- পাড়নারায়ণপুর, পোস্ট- পাংশা, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়িকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস ১০ দিন পর তাকে বাংলাদেশে এনে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮/১২/২০২৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের মামলাটি তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক দল গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি (২৬), পিতা- মোঃ মনজু শেখ, মাতা- মোছাঃ রেহেনা খাতুন, সাং- ফরিদপুর, পোস্ট- কাচারীপাড়া, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়িকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী এলাকার আফজালের বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি মস্তকবিহীন অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন ডিসিস্ট আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খান (২৭), পিতা- মোঃ ওয়াজেদ আলী খান (৫৬), সাং- পাংশা, জেলা- রাজবাড়ি।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জেরে রুহুল আমিন রাব্বি, তার খালা এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মোবারক মন্ডল ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে তার স্ত্রী (রুহুল আমিন রাব্বির খালা), রুহুল আমিন রাব্বি এবং অন্য সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খানকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর মোবারক মন্ডল পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ৬টায় তাকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামি, বিশেষ করে রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোঃ মোবারক মন্ডল (৪৭), পিতা- ইয়াছিন মন্ডল, মাতা- নুরজাহান, সাং- পাড়নারায়ণপুর, পোস্ট- পাংশা, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়িকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস ১০ দিন পর তাকে বাংলাদেশে এনে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮/১২/২০২৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের মামলাটি তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক দল গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি (২৬), পিতা- মোঃ মনজু শেখ, মাতা- মোছাঃ রেহেনা খাতুন, সাং- ফরিদপুর, পোস্ট- কাচারীপাড়া, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়িকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী এলাকার আফজালের বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি মস্তকবিহীন অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন ডিসিস্ট আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খান (২৭), পিতা- মোঃ ওয়াজেদ আলী খান (৫৬), সাং- পাংশা, জেলা- রাজবাড়ি।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জেরে রুহুল আমিন রাব্বি, তার খালা এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মোবারক মন্ডল ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে তার স্ত্রী (রুহুল আমিন রাব্বির খালা), রুহুল আমিন রাব্বি এবং অন্য সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খানকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর মোবারক মন্ডল পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ৬টায় তাকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামি, বিশেষ করে রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন