ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সংবাদ সংগ্রহকালে সাভারে দুই সাংবাদিক আহত



সংবাদ সংগ্রহকালে সাভারে দুই সাংবাদিক আহত

সাভার প্রতিনিধি : ঢাকার সাভারের রাজাশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন, এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনসহ, দেশ টিভির পুরো টিমের উপরে হামলা চালিয়েছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও তার লোকজন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৪ টা নাগাদ পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

এসময় হামলাকারীরা দুই সাংবাদিককে ছুরিকাঘাত করাসহ পুরো টিমের সদস্যদের এলোপাথাড়ি মারধর করে পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে নিয়ে আটকে রেখে মুচলেকা নেওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি দেশ টিভির একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করাসহ দুই সাংবাদিকের কাছে থাকা মানিব্যাগ, নগদ টাকা, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আহত অন্যান্যরা হলেন, দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও ড্রাইভার জয়নাল।

দেশ টিভি'র সিনিয়র রিপোর্টার ও হামলার শিকার সাংবাদিক তুহিন  বলেন, সকালে অফিসের এসাইনমেন্টে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় যাই আমরা। আমাদের সাথে এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনও ছিল। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের বক্তব্য গ্রহনসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসছিলাম। এসময় যেই গলিটি শামীমের মাদক ব্যাবসায়ের জন্য খ্যাত, সেই গলিতে একটু থেমে দূর থেকে মাদক সিন্ডিকেটের সেখানে ইন্সটল করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে আসার সময় একজন ব্যক্তি কথা বলতে চায়। পরে আমি গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই মাদক ব্যবসায়ী শামীমসহ ৪০/৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। 

"এসময় হামলাকারীরা আমাদের গাড়ি ভাংচুর করাসহ আমাদের এলোপাথাড়ি মারধর, আমার পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত, সাদ্দামের চোখে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি আমাদের সাথে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে আমাদের তুলে শামীমের গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাদের উপর নির্যাতন চালায় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে আমরা আমাদের হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালে শামীম জানায় পুলিশ আসছে, তারা আসলে মুচলেকা দিয়ে তারপর যেতে হবে। এর কিছুসময় পর প্রথমে পুলিশের একটি টিম, ও পরে আরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন বলেন, সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন করার পর তুহিন ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে মাদকের বিস্তার নিয়ে রিপোর্ট করার কথা জানায় এবং আমাকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। সেই সুবাদেই আমি আজ দেশ টিভির টিমের সাথে যোগ দেই। হামলার এক পর্যায়ে শামীম পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে গুলি করতে উদ্ব্যত হলে আরেক ব্যক্তি ৩ দফায় আমাকে ছুরিকাঘাত করে এবং একটি আঘাত আমার চোখের কোনে লাগে। এছাড়াও তাকে নিয়ে সম্প্রতি আমি রিপোর্ট করায় আমার উপর ক্ষোভ ছিল তার।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া রহমান বলেন, আমরা দুজন পেশেন্ট পেয়েছি এর মধ্যে একজনের (তুহিন) শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আরেকজনের (সাদ্দাম) চোখে গুরুতর জখম থাকায় তাকে আমরা ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউটে রেফার্ড করেছি। যদিও অন্য যে পেশেন্ট স্থিতিশীল রয়েছে, তাকেও তার স্বজনদের অনুরোধে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত উভয়ের শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক। 

যোগাযোগ করলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে জড়িত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামীমসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবাদ সংগ্রহকালে সাভারে দুই সাংবাদিক আহত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

সাভার প্রতিনিধি : ঢাকার সাভারের রাজাশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন, এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনসহ, দেশ টিভির পুরো টিমের উপরে হামলা চালিয়েছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও তার লোকজন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৪ টা নাগাদ পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

এসময় হামলাকারীরা দুই সাংবাদিককে ছুরিকাঘাত করাসহ পুরো টিমের সদস্যদের এলোপাথাড়ি মারধর করে পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে নিয়ে আটকে রেখে মুচলেকা নেওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি দেশ টিভির একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করাসহ দুই সাংবাদিকের কাছে থাকা মানিব্যাগ, নগদ টাকা, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আহত অন্যান্যরা হলেন, দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও ড্রাইভার জয়নাল।

দেশ টিভি'র সিনিয়র রিপোর্টার ও হামলার শিকার সাংবাদিক তুহিন  বলেন, সকালে অফিসের এসাইনমেন্টে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় যাই আমরা। আমাদের সাথে এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনও ছিল। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের বক্তব্য গ্রহনসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসছিলাম। এসময় যেই গলিটি শামীমের মাদক ব্যাবসায়ের জন্য খ্যাত, সেই গলিতে একটু থেমে দূর থেকে মাদক সিন্ডিকেটের সেখানে ইন্সটল করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে আসার সময় একজন ব্যক্তি কথা বলতে চায়। পরে আমি গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই মাদক ব্যবসায়ী শামীমসহ ৪০/৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। 

"এসময় হামলাকারীরা আমাদের গাড়ি ভাংচুর করাসহ আমাদের এলোপাথাড়ি মারধর, আমার পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত, সাদ্দামের চোখে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি আমাদের সাথে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে আমাদের তুলে শামীমের গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাদের উপর নির্যাতন চালায় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে আমরা আমাদের হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালে শামীম জানায় পুলিশ আসছে, তারা আসলে মুচলেকা দিয়ে তারপর যেতে হবে। এর কিছুসময় পর প্রথমে পুলিশের একটি টিম, ও পরে আরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন বলেন, সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন করার পর তুহিন ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে মাদকের বিস্তার নিয়ে রিপোর্ট করার কথা জানায় এবং আমাকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। সেই সুবাদেই আমি আজ দেশ টিভির টিমের সাথে যোগ দেই। হামলার এক পর্যায়ে শামীম পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে গুলি করতে উদ্ব্যত হলে আরেক ব্যক্তি ৩ দফায় আমাকে ছুরিকাঘাত করে এবং একটি আঘাত আমার চোখের কোনে লাগে। এছাড়াও তাকে নিয়ে সম্প্রতি আমি রিপোর্ট করায় আমার উপর ক্ষোভ ছিল তার।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া রহমান বলেন, আমরা দুজন পেশেন্ট পেয়েছি এর মধ্যে একজনের (তুহিন) শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আরেকজনের (সাদ্দাম) চোখে গুরুতর জখম থাকায় তাকে আমরা ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউটে রেফার্ড করেছি। যদিও অন্য যে পেশেন্ট স্থিতিশীল রয়েছে, তাকেও তার স্বজনদের অনুরোধে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত উভয়ের শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক। 

যোগাযোগ করলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে জড়িত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামীমসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত