ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সামাজিক নৈরাজ্য বন্ধ না হলে সরকারের ভালো উদ্যোগ কাজে আসবে না: সাইফুল হক



সামাজিক নৈরাজ্য বন্ধ না হলে সরকারের ভালো উদ্যোগ কাজে আসবে না: সাইফুল হক

শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাসের কারণে দেশজুড়ে যে গণআতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করার সুযোগ নেই। সামাজিক নৈরাজ্য বন্ধ করতে না পারলে সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোও আখেরে কোনো কাজে আসবে না।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ’ আয়োজিত 'বিএনপি সরকারের তিনমাস - প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এসব কথা বলেন।

সভায় সাইফুল হক বলেন, "একটি দায়বদ্ধ নির্বাচিত সরকারের আমলে সামাজিক নৈরাজ্যকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। শিশু রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া অপরাধের সাথে জড়িত ধর্ষক, হত্যাকারী ও দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দিয়ে বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের হেফাজত করা। "তিনি আরও যোগ করেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কিছু স্কোর জমা করলেও, গণভোট ও সংস্কারের প্রশ্নে নিজেদের অর্জনকে বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়ে রাজনৈতিক পুঁজি খরচ করে ফেলছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব বাবর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ। তিনি বলেন, "মানুষের পচে যাওয়া মূল্যবোধ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। গণতন্ত্রের অর্জন ধরে রাখতে পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে দেয়ালের লিখন পড়তে হবে।"

সভায় অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি- এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "অর্থনৈতিক সূচক ভালো নয় এবং ভালো পারফরম্যান্সও দৃশ্যমান নয়। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে (মাত্র ৫ শতাংশ) নেমে এসেছে। দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে এবং মানুষ কাজ হারাচ্ছে।" তিনি রাজস্ব আয় বাড়াতে করের আওতা বৃদ্ধি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর ধার্য এবং পর্যাপ্ত আলোচনার সুবিধার্থে প্রতি বছর এপ্রিল মাসে বাজেট পেশ করার আহ্বান জানান। একই সাথে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সংস্কার না হওয়াকে পুরো সংস্কার উদ্যোগের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "নতুন সরকারের প্রথম যাত্রায় ইতিবাচক মানসিকতা ও প্রান্তিক জনগণের কল্যাণে কিছু পদক্ষেপ দেখা গেলেও সামাজিক বৈষম্য বিলোপে অগ্রগতি নেই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাজনৈতিক সংস্কার দিয়ে যাত্রা শুরু করা উচিত ছিল।" তিনি ভারতের সাথে মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আমিরুল মোমেনিন মানিক বলেন, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে সমাজকে আর ভাগ করা যাবে না। ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার না হলে সবারই বিপদ।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ আবদুন নূর বলেন, "পরিবর্তনের ব্যাপারে তিন মাসে সরকারের সদিচ্ছা লক্ষ করা গেলেও তা যথেষ্ট নয়। এই সরকারকে অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, সরকারের ব্যর্থ হবার কোনো সুযোগ নেই।"

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক অগ্নিশিখার নির্বাহী সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম খান, ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের সদস্য মাসুদুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সামাজিক নৈরাজ্য বন্ধ না হলে সরকারের ভালো উদ্যোগ কাজে আসবে না: সাইফুল হক

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাসের কারণে দেশজুড়ে যে গণআতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করার সুযোগ নেই। সামাজিক নৈরাজ্য বন্ধ করতে না পারলে সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোও আখেরে কোনো কাজে আসবে না।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ’ আয়োজিত 'বিএনপি সরকারের তিনমাস - প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এসব কথা বলেন।

সভায় সাইফুল হক বলেন, "একটি দায়বদ্ধ নির্বাচিত সরকারের আমলে সামাজিক নৈরাজ্যকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। শিশু রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া অপরাধের সাথে জড়িত ধর্ষক, হত্যাকারী ও দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দিয়ে বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের হেফাজত করা। "তিনি আরও যোগ করেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কিছু স্কোর জমা করলেও, গণভোট ও সংস্কারের প্রশ্নে নিজেদের অর্জনকে বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়ে রাজনৈতিক পুঁজি খরচ করে ফেলছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব বাবর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ। তিনি বলেন, "মানুষের পচে যাওয়া মূল্যবোধ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। গণতন্ত্রের অর্জন ধরে রাখতে পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে দেয়ালের লিখন পড়তে হবে।"

সভায় অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি- এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "অর্থনৈতিক সূচক ভালো নয় এবং ভালো পারফরম্যান্সও দৃশ্যমান নয়। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে (মাত্র ৫ শতাংশ) নেমে এসেছে। দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে এবং মানুষ কাজ হারাচ্ছে।" তিনি রাজস্ব আয় বাড়াতে করের আওতা বৃদ্ধি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর ধার্য এবং পর্যাপ্ত আলোচনার সুবিধার্থে প্রতি বছর এপ্রিল মাসে বাজেট পেশ করার আহ্বান জানান। একই সাথে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সংস্কার না হওয়াকে পুরো সংস্কার উদ্যোগের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "নতুন সরকারের প্রথম যাত্রায় ইতিবাচক মানসিকতা ও প্রান্তিক জনগণের কল্যাণে কিছু পদক্ষেপ দেখা গেলেও সামাজিক বৈষম্য বিলোপে অগ্রগতি নেই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাজনৈতিক সংস্কার দিয়ে যাত্রা শুরু করা উচিত ছিল।" তিনি ভারতের সাথে মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আমিরুল মোমেনিন মানিক বলেন, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে সমাজকে আর ভাগ করা যাবে না। ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার না হলে সবারই বিপদ।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ আবদুন নূর বলেন, "পরিবর্তনের ব্যাপারে তিন মাসে সরকারের সদিচ্ছা লক্ষ করা গেলেও তা যথেষ্ট নয়। এই সরকারকে অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, সরকারের ব্যর্থ হবার কোনো সুযোগ নেই।"

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক অগ্নিশিখার নির্বাহী সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম খান, ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের সদস্য মাসুদুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত