ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

শিশু পাচার চক্রের সদস্যসহ ৩ জন গ্রেফতার, অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার



শিশু পাচার চক্রের সদস্যসহ ৩ জন গ্রেফতার, অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার

অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার এবং মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-৩১ (তারিখ: ১৩ মে) তদন্তের ধারাবাহিকতায় এ সফলতা আসে। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২-এর ৬/৭/৮/১০ ধারায় দায়ের করা হয়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ বিন করিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন (২৯)কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু দুটির পিতা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে মেজবাহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহযোগিতায় দুই সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে তদন্তে আরও জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে সন্তান বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশু পাচার চক্রের সদস্যসহ ৩ জন গ্রেফতার, অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার এবং মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-৩১ (তারিখ: ১৩ মে) তদন্তের ধারাবাহিকতায় এ সফলতা আসে। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২-এর ৬/৭/৮/১০ ধারায় দায়ের করা হয়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ বিন করিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন (২৯)কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু দুটির পিতা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে মেজবাহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহযোগিতায় দুই সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে তদন্তে আরও জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে সন্তান বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত