ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

আতিকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন: আড়াই বছর পর পিবিআইয়ের জালে ৬ আসামি



আতিকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন: আড়াই বছর পর পিবিআইয়ের জালে ৬ আসামি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম (১৯) হত্যা মামলার প্রায় ২ বছর ৬ মাস পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ফতুল্লা থানার মামলা নং-২৪, তারিখ ১১/১১/২০২৩, জিআর নং-৮১২, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

পিবিআই প্রধান মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম’র সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।

গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মোঃ শান্ত হোসেন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।

পিবিআই জানায়, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে আতিকুলের কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতিকুল তার বন্ধু মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে পরিকল্পিতভাবে আসামিরা আতিকুলের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর ১১ নভেম্বর সকালে স্থানীয়রা পুকুরে ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আতিকুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত মূল আসামি শান্ত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রিমান্ড শেষে আসামি আহাদ আলীও আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আতিকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন: আড়াই বছর পর পিবিআইয়ের জালে ৬ আসামি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম (১৯) হত্যা মামলার প্রায় ২ বছর ৬ মাস পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ফতুল্লা থানার মামলা নং-২৪, তারিখ ১১/১১/২০২৩, জিআর নং-৮১২, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

পিবিআই প্রধান মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম’র সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।

গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মোঃ শান্ত হোসেন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।

পিবিআই জানায়, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে আতিকুলের কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতিকুল তার বন্ধু মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে পরিকল্পিতভাবে আসামিরা আতিকুলের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর ১১ নভেম্বর সকালে স্থানীয়রা পুকুরে ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আতিকুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত মূল আসামি শান্ত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রিমান্ড শেষে আসামি আহাদ আলীও আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত