বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিকল্পধারার চিন্তা নতুন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আদর্শিক বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রচিন্তার এক স্বাভাবিক পরিণতি। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিশ্বাস করতেন—দেশের রাজনীতি যদি ব্যক্তিস্বার্থ, দুর্নীতি ও প্রতিহিংসার বলয় থেকে বের হতে না পারে, তবে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। সেই বিশ্বাস থেকেই ২০০৪ সালের ৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে রাজনীতিতে আসা ডা. বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। সততা, আদর্শ ও রাজনৈতিক সৌজন্যের জন্য তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি বিশ্বাস করতেন—রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী, দেশপ্রেমভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের যে প্রয়াস তিনি নিয়েছিলেন, তা তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহজভাবে গ্রহণ করা হয়নি। নানা ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষাপটে মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপরই তিনি উপলব্ধি করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, আত্মকেন্দ্রিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। সেই চিন্তা থেকেই তিনি জনগণের সামনে “বিকল্প রাজনীতি”-র ধারণা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সচেতন নাগরিক ও তরুণ সমাজের মধ্যে এ ধারণা ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
পরবর্তীতে “বিকল্পধারা বাংলাদেশ” নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এমপি ও মাহী বি. চৌধুরী এমপি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মেজর (অব.) আবদুল মান্নান হন দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং মাহী বি. চৌধুরী দায়িত্ব পান মুখপাত্র হিসেবে। উদার গণতন্ত্র, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করে দলটি।
তবে দুই দশক পেরিয়েও ডা. বি. চৌধুরীর কল্পিত “শান্তি-সুখের বাংলাদেশ” এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ দেশের রাজনৈতিক কাঠামো এখনো বহুলাংশে প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক ধারার মধ্যেই আবদ্ধ। বিকল্পধারার নেতাদের মতে, এই বাস্তবতা বদলাতে প্রয়োজন সাহসী, সৎ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
দলের মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধা মনে করেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে উদার গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক শক্তির বাংলাদেশ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে মানুষের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি দুর্নীতি, লোভ ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তবে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
রাজনীতির ইতিহাসে ডা. বি. চৌধুরীর নাম উচ্চারিত হবে একজন ভদ্র, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শিক রাজনীতিবিদ হিসেবে—যিনি ক্ষমতার চেয়ে মূল্যবোধকে বড় করে দেখেছিলেন এবং দেশের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখেছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিকল্পধারার চিন্তা নতুন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আদর্শিক বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রচিন্তার এক স্বাভাবিক পরিণতি। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিশ্বাস করতেন—দেশের রাজনীতি যদি ব্যক্তিস্বার্থ, দুর্নীতি ও প্রতিহিংসার বলয় থেকে বের হতে না পারে, তবে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। সেই বিশ্বাস থেকেই ২০০৪ সালের ৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে রাজনীতিতে আসা ডা. বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। সততা, আদর্শ ও রাজনৈতিক সৌজন্যের জন্য তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি বিশ্বাস করতেন—রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী, দেশপ্রেমভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের যে প্রয়াস তিনি নিয়েছিলেন, তা তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহজভাবে গ্রহণ করা হয়নি। নানা ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষাপটে মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপরই তিনি উপলব্ধি করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, আত্মকেন্দ্রিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। সেই চিন্তা থেকেই তিনি জনগণের সামনে “বিকল্প রাজনীতি”-র ধারণা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সচেতন নাগরিক ও তরুণ সমাজের মধ্যে এ ধারণা ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
পরবর্তীতে “বিকল্পধারা বাংলাদেশ” নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এমপি ও মাহী বি. চৌধুরী এমপি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মেজর (অব.) আবদুল মান্নান হন দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং মাহী বি. চৌধুরী দায়িত্ব পান মুখপাত্র হিসেবে। উদার গণতন্ত্র, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করে দলটি।
তবে দুই দশক পেরিয়েও ডা. বি. চৌধুরীর কল্পিত “শান্তি-সুখের বাংলাদেশ” এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ দেশের রাজনৈতিক কাঠামো এখনো বহুলাংশে প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক ধারার মধ্যেই আবদ্ধ। বিকল্পধারার নেতাদের মতে, এই বাস্তবতা বদলাতে প্রয়োজন সাহসী, সৎ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
দলের মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধা মনে করেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে উদার গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক শক্তির বাংলাদেশ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে মানুষের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি দুর্নীতি, লোভ ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তবে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
রাজনীতির ইতিহাসে ডা. বি. চৌধুরীর নাম উচ্চারিত হবে একজন ভদ্র, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শিক রাজনীতিবিদ হিসেবে—যিনি ক্ষমতার চেয়ে মূল্যবোধকে বড় করে দেখেছিলেন এবং দেশের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন