ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তল-গুলি ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার, গ্রেফতার ১



নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তল-গুলি ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার, গ্রেফতার ১
অস্ত্রসহ আটককৃত আসামী। ছবি: অগ্নিশিখা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) এসএম লুৎফর রহমান নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে ডিউটিরত ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা তিনজন দুষ্কৃতিকারী চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং আঘাত করে তার সরকারি ইস্যুকৃত একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই এসএম লুৎফর রহমানের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাছিনুজ্জামানসহ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের এক পর্যায়ে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০), পিতা—মৃত মিজানুর রহমান, সাং—দেওভোগ পানির ট্যাংক, থানা ও জেলা—নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী জিয়াম ওরফে রাফি (৩৪), পিতা—জামিল, মাতা—রাশিদা বেগম, সাং—দেওভোগ পানির ট্যাংক, থানা—ফতুল্লা, জেলা—নারায়ণগঞ্জ; ডাকু জুয়েল (২৬), পিতা—অজ্ঞাত, ঠিকানা—অজ্ঞাত এবং আরহাম (৩২), পিতা—অজ্ঞাত, ঠিকানা—অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।

পরবর্তীতে মিশালকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, ছিনতাইকৃত অস্ত্র ও গুলি বন্দর থানাধীন রেলি আবাসিক এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উইলসন রোডের রেলি আবাসিক এলাকায় জনৈক মো. শরিফ উদ্দিনের ৫১১ নম্বর নতুন (পুরাতন ৬৪৫) বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে লাল কাপড়ের শপিং ব্যাগে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাইকৃত একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তল-গুলি ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার, গ্রেফতার ১

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) এসএম লুৎফর রহমান নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে ডিউটিরত ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা তিনজন দুষ্কৃতিকারী চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং আঘাত করে তার সরকারি ইস্যুকৃত একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই এসএম লুৎফর রহমানের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাছিনুজ্জামানসহ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের এক পর্যায়ে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০), পিতা—মৃত মিজানুর রহমান, সাং—দেওভোগ পানির ট্যাংক, থানা ও জেলা—নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী জিয়াম ওরফে রাফি (৩৪), পিতা—জামিল, মাতা—রাশিদা বেগম, সাং—দেওভোগ পানির ট্যাংক, থানা—ফতুল্লা, জেলা—নারায়ণগঞ্জ; ডাকু জুয়েল (২৬), পিতা—অজ্ঞাত, ঠিকানা—অজ্ঞাত এবং আরহাম (৩২), পিতা—অজ্ঞাত, ঠিকানা—অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।

পরবর্তীতে মিশালকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, ছিনতাইকৃত অস্ত্র ও গুলি বন্দর থানাধীন রেলি আবাসিক এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উইলসন রোডের রেলি আবাসিক এলাকায় জনৈক মো. শরিফ উদ্দিনের ৫১১ নম্বর নতুন (পুরাতন ৬৪৫) বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে লাল কাপড়ের শপিং ব্যাগে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাইকৃত একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত