নিজস্ব প্রতিবেদক: ইআইএস প্রকল্পটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭২ টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে ইআইএসের মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৪ জনে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদানে চালু রয়েছে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ (ইআইএস) পাইলট প্রকল্প। ২০২২ সালের ২১ জুন চালু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে ২৪৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৬১ জন শ্রমিকের পরিবার এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে শারীরিক সক্ষমতা হারানো শ্রমিক আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম পাইলট’ শীর্ষক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় এই ইআইএস পাইলট প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে বা মৃত্যু ঘটলে আয়ের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণে সুবিধাভোগীদের প্রতি মাসে নিয়মিত পেনশন দেওয়া হয়। এই পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের সর্বশেষ মোট মজুরির ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের ওপর ভিত্তি করে।
এই উদ্যোগটি আইএলও বাংলাদেশ ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে আইএলওর ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বেনিফিট কনভেনশন-১২১’ (১৯৬৪)-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনীতে ইআইএস তহবিল গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালার সংশোধনী প্রক্রিয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের মধ্যে ইআইএস সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দিতে বিলস ও আইএলও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইআইএস পাইলটের অধীনে মোট ৪০টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের ৪৬৮টি কারখানার ১০ হাজার ২০৩ জন শ্রমিক এতে সরাসরি অংশ নেন, যার মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী এবং ৬১ শতাংশ পুরুষ কর্মী ছিলেন। পোশাক শিল্পে সক্রিয় ১৬টি সেক্টরাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এবং এনসিসিডব্লিউইভুক্ত ১২টি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সংগঠনটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা নিয়মিত আগুন, ভবনধস, যান্ত্রিক ও রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। অতীতের রানা প্লাজা বা তাজরীন ফ্যাশনসের মতো বড় দুর্ঘটনাগুলো শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। হঠাৎ দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত বা নিহত হলে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ইআইএস উপযুক্ত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মৌলিক জীবিকা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইআইএস প্রকল্পটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭২ টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে ইআইএসের মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৪ জনে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদানে চালু রয়েছে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ (ইআইএস) পাইলট প্রকল্প। ২০২২ সালের ২১ জুন চালু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে ২৪৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৬১ জন শ্রমিকের পরিবার এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে শারীরিক সক্ষমতা হারানো শ্রমিক আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম পাইলট’ শীর্ষক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় এই ইআইএস পাইলট প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে বা মৃত্যু ঘটলে আয়ের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণে সুবিধাভোগীদের প্রতি মাসে নিয়মিত পেনশন দেওয়া হয়। এই পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের সর্বশেষ মোট মজুরির ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের ওপর ভিত্তি করে।
এই উদ্যোগটি আইএলও বাংলাদেশ ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে আইএলওর ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বেনিফিট কনভেনশন-১২১’ (১৯৬৪)-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনীতে ইআইএস তহবিল গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালার সংশোধনী প্রক্রিয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের মধ্যে ইআইএস সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দিতে বিলস ও আইএলও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইআইএস পাইলটের অধীনে মোট ৪০টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের ৪৬৮টি কারখানার ১০ হাজার ২০৩ জন শ্রমিক এতে সরাসরি অংশ নেন, যার মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী এবং ৬১ শতাংশ পুরুষ কর্মী ছিলেন। পোশাক শিল্পে সক্রিয় ১৬টি সেক্টরাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এবং এনসিসিডব্লিউইভুক্ত ১২টি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সংগঠনটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা নিয়মিত আগুন, ভবনধস, যান্ত্রিক ও রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। অতীতের রানা প্লাজা বা তাজরীন ফ্যাশনসের মতো বড় দুর্ঘটনাগুলো শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। হঠাৎ দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত বা নিহত হলে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ইআইএস উপযুক্ত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মৌলিক জীবিকা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আপনার মতামত লিখুন