ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সাত বছর পর ৪০০ সদস্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন শি জিনপিং



সাত বছর পর ৪০০ সদস্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে আসতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতীয় কয়েকটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে আসতে পারেন তিনি।

সফরটি হলে প্রায় সাত বছর পর ভারতে পা রাখবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রয়টার্সকে একটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে সামনে রেখে চীনা কর্মকর্তারা হোটেল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভারতের দুটি সূত্রের দাবি, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা ভারত সফরে আসতে পারেন। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে ২০০ জনেরও কম কর্মকর্তা ছিলেন।

ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। চলতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছে তারা।

তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে জানানোর মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এরপর প্রায় চার বছর সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা ছিল।

পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া ও বিচ্ছিন্নকরণ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় ভারত ও চীন। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার আলোচনা করার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ভারত ও চীন এখনো কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভারত-চীন সম্পর্কেও নতুন সমীকরণের সূচনা করবে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাত বছর পর ৪০০ সদস্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে আসতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতীয় কয়েকটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে আসতে পারেন তিনি।

সফরটি হলে প্রায় সাত বছর পর ভারতে পা রাখবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রয়টার্সকে একটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে সামনে রেখে চীনা কর্মকর্তারা হোটেল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভারতের দুটি সূত্রের দাবি, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা ভারত সফরে আসতে পারেন। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে ২০০ জনেরও কম কর্মকর্তা ছিলেন।

ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। চলতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছে তারা।

তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে জানানোর মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এরপর প্রায় চার বছর সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা ছিল।

পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া ও বিচ্ছিন্নকরণ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় ভারত ও চীন। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার আলোচনা করার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ভারত ও চীন এখনো কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভারত-চীন সম্পর্কেও নতুন সমীকরণের সূচনা করবে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত