ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সামার দাভোসে সতর্কবার্তা: এআইয়ের সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকি



সামার দাভোসে সতর্কবার্তা: এআইয়ের সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সংকট, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক World Economic Forum (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত এ বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।

ডব্লিউইএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক Mirek Dušek মঙ্গলবার বলেন, এআই ইতোমধ্যে শিল্প ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে এসব প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন, কর্মসংস্থান হ্রাস, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অর্থনীতিতে চাপ

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

এসব অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে World Bank চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে কোভিড-১৯ মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে।

মিরেক দুসেক বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি মন্থর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি বিশ্ব আরও গভীর বিভাজনের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।”

চীনের অর্থনীতি নিয়ে বার্তা

বুধবার ডব্লিউইএফের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে চীনের প্রধানমন্ত্রী Li Qiang-এর।

উত্তর-পূর্ব চীনের বন্দরনগরী Dalian-এ আয়োজিত এ সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে চীনের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি China সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের দশকগুলোর মতো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। রপ্তানি ও এআই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং দীর্ঘস্থায়ী আবাসন খাতের ঋণসংকট দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের আশঙ্কা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Graham Allison বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ তত্ত্বের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত অ্যালিসনের মতে, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি বিদ্যমান প্রভাবশালী শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে প্রশ্ন করেন, দুই দেশ কি ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন ধারা তৈরি করতে পারে না?

অ্যালিসনের মতে, দুই দেশের নেতারাই এমন একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, “দুই প্রেসিডেন্টই স্পষ্টভাবে এমন একটি পথ খুঁজছেন, যা থুসিডাইডিস ফাঁদ এড়িয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সামার দাভোসে সতর্কবার্তা: এআইয়ের সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সংকট, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক World Economic Forum (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত এ বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।

ডব্লিউইএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক Mirek Dušek মঙ্গলবার বলেন, এআই ইতোমধ্যে শিল্প ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে এসব প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন, কর্মসংস্থান হ্রাস, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অর্থনীতিতে চাপ

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

এসব অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে World Bank চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে কোভিড-১৯ মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে।

মিরেক দুসেক বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি মন্থর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি বিশ্ব আরও গভীর বিভাজনের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।”

চীনের অর্থনীতি নিয়ে বার্তা

বুধবার ডব্লিউইএফের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে চীনের প্রধানমন্ত্রী Li Qiang-এর।

উত্তর-পূর্ব চীনের বন্দরনগরী Dalian-এ আয়োজিত এ সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে চীনের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি China সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের দশকগুলোর মতো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। রপ্তানি ও এআই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং দীর্ঘস্থায়ী আবাসন খাতের ঋণসংকট দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের আশঙ্কা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Graham Allison বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ তত্ত্বের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত অ্যালিসনের মতে, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি বিদ্যমান প্রভাবশালী শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে প্রশ্ন করেন, দুই দেশ কি ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন ধারা তৈরি করতে পারে না?

অ্যালিসনের মতে, দুই দেশের নেতারাই এমন একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, “দুই প্রেসিডেন্টই স্পষ্টভাবে এমন একটি পথ খুঁজছেন, যা থুসিডাইডিস ফাঁদ এড়িয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।”


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত