ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিশিখা

এক জীবনে বহু জীবন ধারণ করতে চান জহিরুল হক



এক জীবনে বহু জীবন ধারণ করতে চান জহিরুল হক

একদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, অন্যদিকে অভিনয়ের জগতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার তাগিদ। পেশাগত ব্যস্ততা তাঁর অভিনয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ২৬ বছরের বীমা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করে চলেছেন মো. জহিরুল হক। পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁর স্বপ্ন, একদিন গ্রামের মাটির কাছাকাছি থাকা একজন পোড় খাওয়া মানুষের জীবন ফুটিয়ে তুলবেন অভিনয়ের মাধ্যমে।


নোয়াখালীর মাইজদী শহরে বেড়ে ওঠা জহিরুল হকের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু ছোটবেলাতেই। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় যুক্ত হন ‘মঞ্চ নোয়াখালী’র সঙ্গে। ১৯৯৩ সালে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদের পরিচালনায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ক্যাম্পাস’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পর্দায় যাত্রা। পরে যুক্ত হন লোক নাট্যদল ও নাট্য ফৌজের সঙ্গে।

ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর পেশাজীবনে প্রবেশ করেন জহিরুল হক। মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে বর্তমানে ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের দাবি বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও অভিনয়ের চর্চা ধরে রেখেছেন এই শিল্পী।


অভিনয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে অরণ্য আনোয়ারের ‘জননী’, ‘সুগার নানা’, ‘বোরখা’ ও ‘বাইসাইকেলের গল্প’। ফজলে আজিম জুয়েলের ‘যেতে যেতে পথে’ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জিন্দাবাহার’-এও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মা’-তে অভিনয় করে বিশেষভাবে প্রশংসিত হন জহিরুল হক। ছবিটি ৭৬তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল সিনেমা হিসেবে স্থান পায়।


অভিনয়ের পাশাপাশি গানের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ নাটকের থিম সংটি নিজের লেখা ও কণ্ঠে তুলে ধরেছেন তিনি। নাটকের জন্য গানটি তৈরি হলেও আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে জহিরুল হক বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস নাটকে একটি মৌলিক গান ছিল। সেটি আলাদাভাবে প্রকাশ পায়নি। নাটকের থিম সংটি আমার লেখা ও গাওয়া।

সাম্প্রতিক কাজ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জিয়াউদ্দিন আলমের ‘বউয়ের মামলা’, ‘নালিশ’, ‘ওয়াদা’ ও ‘অবহেলা’ নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি জুবায়ের ইবনে বাকেরের ‘টান’ নাটকটি নিয়ে বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত তিনি। নির্মাতার সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম কাজ। নাটকটিতে একেবারেই ভিন্ন ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান এই শিল্পী।


অভিনয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে জহিরুল হক বলেন, অভিনয় নিয়ে অনেক ভাবনা আছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে, বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই। তবে পর্দায় একদম মাটির কাছাকাছি থাকা গ্রামের একজন পোড় খাওয়া মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা অনেক দিনের। এই ভাবনাটা আমি লালন করি। এটা আমার স্বপ্নের চরিত্র। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে নিজেকে সেই চরিত্রে কল্পনা করি। আসলে অভিনয় মানেই তো এক জীবনে বহু জীবন ধারণ করা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


এক জীবনে বহু জীবন ধারণ করতে চান জহিরুল হক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, অন্যদিকে অভিনয়ের জগতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার তাগিদ। পেশাগত ব্যস্ততা তাঁর অভিনয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ২৬ বছরের বীমা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করে চলেছেন মো. জহিরুল হক। পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁর স্বপ্ন, একদিন গ্রামের মাটির কাছাকাছি থাকা একজন পোড় খাওয়া মানুষের জীবন ফুটিয়ে তুলবেন অভিনয়ের মাধ্যমে।


নোয়াখালীর মাইজদী শহরে বেড়ে ওঠা জহিরুল হকের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু ছোটবেলাতেই। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় যুক্ত হন ‘মঞ্চ নোয়াখালী’র সঙ্গে। ১৯৯৩ সালে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদের পরিচালনায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ক্যাম্পাস’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পর্দায় যাত্রা। পরে যুক্ত হন লোক নাট্যদল ও নাট্য ফৌজের সঙ্গে।

ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর পেশাজীবনে প্রবেশ করেন জহিরুল হক। মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে বর্তমানে ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের দাবি বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও অভিনয়ের চর্চা ধরে রেখেছেন এই শিল্পী।


অভিনয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে অরণ্য আনোয়ারের ‘জননী’, ‘সুগার নানা’, ‘বোরখা’ ও ‘বাইসাইকেলের গল্প’। ফজলে আজিম জুয়েলের ‘যেতে যেতে পথে’ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জিন্দাবাহার’-এও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মা’-তে অভিনয় করে বিশেষভাবে প্রশংসিত হন জহিরুল হক। ছবিটি ৭৬তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল সিনেমা হিসেবে স্থান পায়।


অভিনয়ের পাশাপাশি গানের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ নাটকের থিম সংটি নিজের লেখা ও কণ্ঠে তুলে ধরেছেন তিনি। নাটকের জন্য গানটি তৈরি হলেও আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে জহিরুল হক বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস নাটকে একটি মৌলিক গান ছিল। সেটি আলাদাভাবে প্রকাশ পায়নি। নাটকের থিম সংটি আমার লেখা ও গাওয়া।

সাম্প্রতিক কাজ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জিয়াউদ্দিন আলমের ‘বউয়ের মামলা’, ‘নালিশ’, ‘ওয়াদা’ ও ‘অবহেলা’ নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি জুবায়ের ইবনে বাকেরের ‘টান’ নাটকটি নিয়ে বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত তিনি। নির্মাতার সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম কাজ। নাটকটিতে একেবারেই ভিন্ন ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান এই শিল্পী।


অভিনয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে জহিরুল হক বলেন, অভিনয় নিয়ে অনেক ভাবনা আছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে, বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই। তবে পর্দায় একদম মাটির কাছাকাছি থাকা গ্রামের একজন পোড় খাওয়া মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা অনেক দিনের। এই ভাবনাটা আমি লালন করি। এটা আমার স্বপ্নের চরিত্র। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে নিজেকে সেই চরিত্রে কল্পনা করি। আসলে অভিনয় মানেই তো এক জীবনে বহু জীবন ধারণ করা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত