মোঃ ইলিয়াস মিয়া, বরগুনা: বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার অধিকাংশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার চেয়ে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। তারপরও ক্লাসরুম ফাঁকা। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না, আর হাজিরা খাতা নিয়ে চলছে রীতিমতো লুকোচুরি খেলা।
আমতলী উপজেলার হালিমা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রীদের কোনো হাজিরা খাতাই পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের সকল রেজিস্ট্রার তল্লাশি করেও হাজিরা খাতার হদিস মেলেনি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হাজিরা খাতা ১৫ দিন আগে সভাপতির কাছে জমা দিয়েছি।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার কাছে কোনো হাজিরা খাতা নেই। এ সব প্রধান শিক্ষকের মনগড়া কথা। আমি হাজিরা খাতা দিয়ে কী করব?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজিরা খাতা গায়েব করে বছরের পর বছর অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত দেখিয়ে বেতন তোলা হচ্ছে।
একই চিত্র খাকদোন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান প্রতিদিন সকালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বাসায় চলে যান। এই নিয়ম তিনি বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, আমরা কিছু বলতে গেলে স্যার বলেন, আমি অসুস্থ, সব আমার অফিস জানে। বেশি কথা বললে শোকজ দেব। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দপ্তরীকে নিয়ে। ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. মাসুম বিল্লা নাকি একদিনও বিদ্যালয়ে না এসে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বেতন তুলে নিচ্ছেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের ক্ষোভ, মনে হয় এই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী কাজ না করে সরকারি বেতন নেওয়ার মহা-উৎসবে মেতেছেন। সরকার টাকা দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের সন্তানরা শিক্ষা পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ ইলিয়াস মিয়া, বরগুনা: বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার অধিকাংশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার চেয়ে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। তারপরও ক্লাসরুম ফাঁকা। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না, আর হাজিরা খাতা নিয়ে চলছে রীতিমতো লুকোচুরি খেলা।
আমতলী উপজেলার হালিমা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রীদের কোনো হাজিরা খাতাই পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের সকল রেজিস্ট্রার তল্লাশি করেও হাজিরা খাতার হদিস মেলেনি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হাজিরা খাতা ১৫ দিন আগে সভাপতির কাছে জমা দিয়েছি।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার কাছে কোনো হাজিরা খাতা নেই। এ সব প্রধান শিক্ষকের মনগড়া কথা। আমি হাজিরা খাতা দিয়ে কী করব?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজিরা খাতা গায়েব করে বছরের পর বছর অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত দেখিয়ে বেতন তোলা হচ্ছে।
একই চিত্র খাকদোন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান প্রতিদিন সকালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বাসায় চলে যান। এই নিয়ম তিনি বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, আমরা কিছু বলতে গেলে স্যার বলেন, আমি অসুস্থ, সব আমার অফিস জানে। বেশি কথা বললে শোকজ দেব। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দপ্তরীকে নিয়ে। ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. মাসুম বিল্লা নাকি একদিনও বিদ্যালয়ে না এসে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বেতন তুলে নিচ্ছেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের ক্ষোভ, মনে হয় এই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী কাজ না করে সরকারি বেতন নেওয়ার মহা-উৎসবে মেতেছেন। সরকার টাকা দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের সন্তানরা শিক্ষা পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন