ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিশিখা

আসামে বাংলাদেশি দাবি করে ১৮ জনকে আটক


প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

আসামে বাংলাদেশি দাবি করে ১৮ জনকে আটক

অগ্নিশিখা অনলাইন

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশি দাবি করে ১৮ জনকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে গত দুই দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেলস্টেশনে তল্লাশির সময় পাঁচজন এবং বুধবার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও ১৩ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বাংলাদেশি দাবি করে আটকের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুয়াহাটির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (অপারেশনস) কুলেন্দ্র নাথ ডেকা। সাংবাদিকদের তিনি জানান, মঙ্গলবার পল্টন বাজার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নিয়মিত তল্লাশির সময় লোকমান্য তিলক টার্মিনাস এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরা থেকে পাঁচ ‘বাংলাদেশি নাগরিককে’ গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা মেঘালয়ের ডাউকি হয়ে ভারতে প্রবেশ করে গত ৫ অক্টোবর গুয়াহাটিতে পৌঁছান। পরে তারা শহরের একটি হোটেলে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন তারা যে হোটেলে ছিলেন, সেটির তথ্য দেন। পরে তার দেখানো তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের পর পানবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান এবং আসাম থেকে ভারতের অন্যান্য এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ার অভিযোগে আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা হলেন—হজরত আলী, অমিতরাই দইমারি, বিকাশ পাল ও রঞ্জন ধর।

ডিসিপি ডেকা জানান, অমিতরাই দইমারি ওই হোটেলের মালিক। বিকাশ পাল ও রঞ্জন ধর হোটেলটির ব্যবস্থাপক। আর হজরত আলী মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে পৌঁছে দিতেন।

এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) পৃথক অভিযানে ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই গুয়াহাটিতে ফেরার আগে গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে শ্রীনগরে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আসাম থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে ফেরার জন্য সহযোগিতা করতে পারে—এমন একটি চক্রের সন্ধান করছিলেন তারা।

নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গুয়াহাটির হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিসিপি ডেকা জানান, ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) আইনের আওতায় তাদের আসাম থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

আসাম থেকে বাংলাদেশে কার্গো যাত্রা: সাত দশক পরে ব্রহ্মপুত্রে ফিরল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

তিনি বলেন, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এগিয়ে নেবে। এরপর কামরূপ মেট্রোপলিটনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের প্রয়োজনীয় আদেশ পাওয়ার পর ওই ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আসামে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও চলাচলে সহায়তা করা কথিত চক্রের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


আসামে বাংলাদেশি দাবি করে ১৮ জনকে আটক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অগ্নিশিখা অনলাইন

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশি দাবি করে ১৮ জনকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে গত দুই দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেলস্টেশনে তল্লাশির সময় পাঁচজন এবং বুধবার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও ১৩ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বাংলাদেশি দাবি করে আটকের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুয়াহাটির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (অপারেশনস) কুলেন্দ্র নাথ ডেকা। সাংবাদিকদের তিনি জানান, মঙ্গলবার পল্টন বাজার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নিয়মিত তল্লাশির সময় লোকমান্য তিলক টার্মিনাস এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরা থেকে পাঁচ ‘বাংলাদেশি নাগরিককে’ গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা মেঘালয়ের ডাউকি হয়ে ভারতে প্রবেশ করে গত ৫ অক্টোবর গুয়াহাটিতে পৌঁছান। পরে তারা শহরের একটি হোটেলে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন তারা যে হোটেলে ছিলেন, সেটির তথ্য দেন। পরে তার দেখানো তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের পর পানবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান এবং আসাম থেকে ভারতের অন্যান্য এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ার অভিযোগে আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা হলেন—হজরত আলী, অমিতরাই দইমারি, বিকাশ পাল ও রঞ্জন ধর।

ডিসিপি ডেকা জানান, অমিতরাই দইমারি ওই হোটেলের মালিক। বিকাশ পাল ও রঞ্জন ধর হোটেলটির ব্যবস্থাপক। আর হজরত আলী মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে পৌঁছে দিতেন।

এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) পৃথক অভিযানে ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই গুয়াহাটিতে ফেরার আগে গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে শ্রীনগরে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আসাম থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে ফেরার জন্য সহযোগিতা করতে পারে—এমন একটি চক্রের সন্ধান করছিলেন তারা।

নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গুয়াহাটির হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিসিপি ডেকা জানান, ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) আইনের আওতায় তাদের আসাম থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

আসাম থেকে বাংলাদেশে কার্গো যাত্রা: সাত দশক পরে ব্রহ্মপুত্রে ফিরল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

তিনি বলেন, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এগিয়ে নেবে। এরপর কামরূপ মেট্রোপলিটনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের প্রয়োজনীয় আদেশ পাওয়ার পর ওই ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আসামে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও চলাচলে সহায়তা করা কথিত চক্রের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত