ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিশিখা

রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মান্না

সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান


প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে আরও সংকটে পড়ে যান। জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। সারাদেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন শ্লোগানে আলোচনা সভার আয়োজক ছিল নাগরিক ঐক্য। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হাসানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দিপু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার ও নাগরিক নারী ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার।

মান্না আরো বলেন, সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি না-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার প্রশ্ন, সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।

নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়ে মান্না বলেন, তার এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি। মানে তারা নিম্নআদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।

তিনি আরও বলেন, তার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন কথা?

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে গড়পড়তা ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের পর খাল কাটার হুলুস্থুল হয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসব কথা বললেই কেউ কেউ ফোন করে বলবেন, ‘ভাই, আপনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলে গেলেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি তো বিরুদ্ধে যাইনি। সত্য কথা বলছি।’ দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি চান বিএনপি সফল হোক।

দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এত দোষ দেওয়া হলেও তাদের সময় কিন্তু তেলের দাম বাড়েনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গত রবিবার রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখছিলেন তিনি। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এমন হতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক হয় এবং সংবিধান বাস্তবায়ন হয়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা কি বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে? তা না হলে পুনরায় স্বৈরাচার হয়ে ওঠা স্বাভাবিক।


আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে আরও সংকটে পড়ে যান। জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। সারাদেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন শ্লোগানে আলোচনা সভার আয়োজক ছিল নাগরিক ঐক্য। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হাসানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দিপু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার ও নাগরিক নারী ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার।

মান্না আরো বলেন, সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি না-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার প্রশ্ন, সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।

নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়ে মান্না বলেন, তার এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি। মানে তারা নিম্নআদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।

তিনি আরও বলেন, তার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন কথা?

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে গড়পড়তা ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের পর খাল কাটার হুলুস্থুল হয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসব কথা বললেই কেউ কেউ ফোন করে বলবেন, ‘ভাই, আপনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলে গেলেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি তো বিরুদ্ধে যাইনি। সত্য কথা বলছি।’ দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি চান বিএনপি সফল হোক।

দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এত দোষ দেওয়া হলেও তাদের সময় কিন্তু তেলের দাম বাড়েনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গত রবিবার রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখছিলেন তিনি। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এমন হতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক হয় এবং সংবিধান বাস্তবায়ন হয়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা কি বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে? তা না হলে পুনরায় স্বৈরাচার হয়ে ওঠা স্বাভাবিক।



অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত