মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র পদের মনোনয়ন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতের রেষ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু। প্রায় ১১ দিন ঢাকার হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পহেলা অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় ফিরেছেন তিনি।
তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে এখন সিরাজগঞ্জ পৌর রাজনীতিতে একটিই বড় প্রশ্ন—‘বিএনপি নেতা বাচ্চুই কি তবে দল থেকে মেয়র হিসেবে লড়বেন?’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও খলিফাপট্টি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরাতন পোস্ট অফিস রোড এলাকায় অবস্থিত সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাড়াটিয়া বাহিনীকে দায়ী করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিচার দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া ছবি ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
তবে সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার ১৮ দিনেও গ্রেফতার হয়নি হামলাকারীরা।
এদিকে সাইদুর রহমান বাচ্চু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জেলা বিএনপির আয়োজনে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দলীয় কোন্দল ও মারামারির ওপর কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মেয়র নির্বাচন কেন্দ্রীক এই সংঘাতের প্রতি ইঙ্গিত করে সিরাজগঞ্জবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, কোথায় মেয়র ইলেকশন আছে সেই মেয়র ইলেকশনকে নিয়া এপার ওপার মারামারি করবা আর আমি হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকবো, সেখানে আমি প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাব যে সিরাজগঞ্জে এটা কি হচ্ছে? এটা সহ্য করা হবে না।
ঘটনায় জড়িতদের দলীয় পদ হারানোসহ উপযুক্ত শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলি—যে বা যারা এই আন্দোলনে শরীক ছিল, এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, আওয়ামী লীগের আমলে যে নির্বাচন করেছিল সেই বিএনপির প্রার্থী হবে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিগত আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং আওয়ামী শাসনামলে রাজপথে সক্রিয় থাকা সাইদুর রহমান বাচ্চুই শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সুস্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মীরা সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সংবর্ধনা জানান। প্রায় এক হাজার মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে তাঁকে মুন্সী মেহেরউল্লাহ সড়কের বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগপ্লুত কণ্ঠে সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়ার জোরেই মহান আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। আপনাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি রক্ত দিয়ে হলেও শোধ করবো।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা চলাকালে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন ও হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। পাশাপাশি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, দলীয় নেতাকর্মী এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাচ্চুর এই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রত্যাবর্তন ও শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব সিরাজগঞ্জের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতার গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র পদের মনোনয়ন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতের রেষ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু। প্রায় ১১ দিন ঢাকার হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পহেলা অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় ফিরেছেন তিনি।
তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে এখন সিরাজগঞ্জ পৌর রাজনীতিতে একটিই বড় প্রশ্ন—‘বিএনপি নেতা বাচ্চুই কি তবে দল থেকে মেয়র হিসেবে লড়বেন?’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও খলিফাপট্টি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরাতন পোস্ট অফিস রোড এলাকায় অবস্থিত সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাড়াটিয়া বাহিনীকে দায়ী করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিচার দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া ছবি ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
তবে সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার ১৮ দিনেও গ্রেফতার হয়নি হামলাকারীরা।
এদিকে সাইদুর রহমান বাচ্চু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জেলা বিএনপির আয়োজনে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দলীয় কোন্দল ও মারামারির ওপর কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মেয়র নির্বাচন কেন্দ্রীক এই সংঘাতের প্রতি ইঙ্গিত করে সিরাজগঞ্জবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, কোথায় মেয়র ইলেকশন আছে সেই মেয়র ইলেকশনকে নিয়া এপার ওপার মারামারি করবা আর আমি হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকবো, সেখানে আমি প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাব যে সিরাজগঞ্জে এটা কি হচ্ছে? এটা সহ্য করা হবে না।
ঘটনায় জড়িতদের দলীয় পদ হারানোসহ উপযুক্ত শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলি—যে বা যারা এই আন্দোলনে শরীক ছিল, এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, আওয়ামী লীগের আমলে যে নির্বাচন করেছিল সেই বিএনপির প্রার্থী হবে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিগত আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং আওয়ামী শাসনামলে রাজপথে সক্রিয় থাকা সাইদুর রহমান বাচ্চুই শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সুস্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মীরা সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সংবর্ধনা জানান। প্রায় এক হাজার মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে তাঁকে মুন্সী মেহেরউল্লাহ সড়কের বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগপ্লুত কণ্ঠে সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়ার জোরেই মহান আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। আপনাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি রক্ত দিয়ে হলেও শোধ করবো।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা চলাকালে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন ও হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। পাশাপাশি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, দলীয় নেতাকর্মী এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাচ্চুর এই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রত্যাবর্তন ও শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব সিরাজগঞ্জের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতার গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন