শুধু মাত্র সাভার ও আশুলিয়ায় অনুমোদিত অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজগুলোতেই ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ৩-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সমিতির আওতায় থাকা ২ হাজার ৫৩৯টি অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজে ৬ হাজার ৪৮৪টি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব বলছে, এসব গ্যারেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে নিজ নিজ সমিতির হিসাবে লোডশেডিং কমত যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সাভার ও আশুলিয়ার দুই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হিসাবই দেখাচ্ছে, শুধু অনুমোদিত চার্জিং গ্যারেজগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে থাকা অবৈধ চার্জিং গ্যারেজগুলোর হিসাব যুক্ত হলে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো: আক্তারুজ্জামান লস্কর জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) রেট সিডিউল অনুযায়ী অটো চার্জিং গ্যারেজের জন্য আলাদা ট্যারিফ রয়েছে। এলটি-ডি৩/এমটি-৭ ট্যারিফের আওতায় বিইআরসির নীতিমালা অনুসরণ করে এসব গ্যারেজে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় ১ হাজার ৫১১টি অটো চার্জিং গ্যারেজে ৪ হাজার ৪৩২টি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্যারেজে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এই গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে সমিতির প্রায় ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ লোডশেডিং কমানো সম্ভব হতো বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতায় রয়েছে ১ হাজার ২৮টি অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে প্রায় ২ হাজার ৫২টি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছে। সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটো চার্জিং স্টেশনগুলোতে প্রদত্ত লোড প্রায় ২০ মেগাওয়াট।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জেনারেল ম্যানেজার মো: মামুন অর রশীদ বলেন, অটোরিকশা চার্জিংয়ের জন্য গ্যারেজগুলোতে ট্রান্সফরমার সংযোগ না দেওয়া হলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতো, তাতে চলমান লোডশেডিংয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ত। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা পবিস-৩-এর সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৩২৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে অটো চার্জিং স্টেশনগুলোতে প্রদত্ত লোড প্রায় ২০ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে এসব গ্যারেজ না থাকলে মোট লোডের প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ লোডশেডিং কম হতো।
তবে এই হিসাব কেবল অনুমোদিত অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজের। সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার গ্যারেজও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্যারেজে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তাদের সংযোগ বৈধ কি না, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া গেলে বিদ্যুতের ওপর অটোরিকশা খাতের প্রকৃত চাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে।
দিনে দিনে এ-ই অটোরিকশা চার্জ যেভাবে বিদ্যুৎ এর উপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে তাতে দেশের বিদ্যুৎ এর চলমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যা দেশের লোশসেডিং এ-র মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুধু মাত্র সাভার ও আশুলিয়ায় অনুমোদিত অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজগুলোতেই ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ৩-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সমিতির আওতায় থাকা ২ হাজার ৫৩৯টি অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজে ৬ হাজার ৪৮৪টি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব বলছে, এসব গ্যারেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে নিজ নিজ সমিতির হিসাবে লোডশেডিং কমত যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সাভার ও আশুলিয়ার দুই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হিসাবই দেখাচ্ছে, শুধু অনুমোদিত চার্জিং গ্যারেজগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে থাকা অবৈধ চার্জিং গ্যারেজগুলোর হিসাব যুক্ত হলে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো: আক্তারুজ্জামান লস্কর জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) রেট সিডিউল অনুযায়ী অটো চার্জিং গ্যারেজের জন্য আলাদা ট্যারিফ রয়েছে। এলটি-ডি৩/এমটি-৭ ট্যারিফের আওতায় বিইআরসির নীতিমালা অনুসরণ করে এসব গ্যারেজে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় ১ হাজার ৫১১টি অটো চার্জিং গ্যারেজে ৪ হাজার ৪৩২টি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্যারেজে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এই গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে সমিতির প্রায় ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ লোডশেডিং কমানো সম্ভব হতো বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতায় রয়েছে ১ হাজার ২৮টি অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে প্রায় ২ হাজার ৫২টি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছে। সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটো চার্জিং স্টেশনগুলোতে প্রদত্ত লোড প্রায় ২০ মেগাওয়াট।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জেনারেল ম্যানেজার মো: মামুন অর রশীদ বলেন, অটোরিকশা চার্জিংয়ের জন্য গ্যারেজগুলোতে ট্রান্সফরমার সংযোগ না দেওয়া হলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতো, তাতে চলমান লোডশেডিংয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ত। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা পবিস-৩-এর সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৩২৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে অটো চার্জিং স্টেশনগুলোতে প্রদত্ত লোড প্রায় ২০ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে এসব গ্যারেজ না থাকলে মোট লোডের প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ লোডশেডিং কম হতো।
তবে এই হিসাব কেবল অনুমোদিত অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজের। সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার গ্যারেজও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্যারেজে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তাদের সংযোগ বৈধ কি না, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া গেলে বিদ্যুতের ওপর অটোরিকশা খাতের প্রকৃত চাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে।
দিনে দিনে এ-ই অটোরিকশা চার্জ যেভাবে বিদ্যুৎ এর উপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে তাতে দেশের বিদ্যুৎ এর চলমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যা দেশের লোশসেডিং এ-র মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন