ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

জন নিরাপত্তা সংকটে সাভারের বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দারা, নেপথ্যে হত্যা-মাদক ও কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম



জন নিরাপত্তা সংকটে সাভারের বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দারা, নেপথ্যে  হত্যা-মাদক ও কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম

সাভারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রাম। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত তিন বছরে এই এলাকায় অন্তত পাঁচটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর আগে ২০১১ সালে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও এই এলাকায় ঘটেছিল বলে তারা জানান। 

সাম্প্রতিক সময়ে এসআই আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় তদন্তে কিশোর গ্যাং ও মাদকের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসায় বড়দেশী গ্রাম নিয়ে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। 

শুরুতে অটোরিকশা পার্কিং নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও তদন্তে ঘটনাটির সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বড়দেশীর গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলে। বিশেষ করে একটি বালুর মাঠকে ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেশি। সন্ধ্যার পর সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জড়ো হতে দেখা যায় বলে তাদের অভিযোগ।

আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় মুঠোফোনে এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। পরে সেখানে প্রায় ২৫ জন জড়ো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা একটি বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং শুরুতেই আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালায়।

রাজধানীর কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বড়দেশীর গ্রামের  ভেতরের অনেক এলাকায় এখনো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বেশ কিছু এলাকায় পাকা রাস্তা নেই। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত চলাচলেও সমস্যা হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, বড়দেশীর গ্রামের অনেক এলাকায় এখনো পাকা রাস্তা নেই। ফলে পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা ও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যা হয়। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বড়দেশীর বর্তমান পরিস্থিতিকে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি বড়দেশীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান না চালালে এলাকায় অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

এছাড়াও যেভাবে কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়ে চলছে তা সাধারণ মানুষের উৎকন্ঠার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ এবং প্রোয়জন সাপেক্ষে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জন নিরাপত্তা সংকটে সাভারের বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দারা, নেপথ্যে হত্যা-মাদক ও কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাভারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রাম। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত তিন বছরে এই এলাকায় অন্তত পাঁচটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর আগে ২০১১ সালে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও এই এলাকায় ঘটেছিল বলে তারা জানান। 

সাম্প্রতিক সময়ে এসআই আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় তদন্তে কিশোর গ্যাং ও মাদকের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসায় বড়দেশী গ্রাম নিয়ে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। 

শুরুতে অটোরিকশা পার্কিং নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও তদন্তে ঘটনাটির সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বড়দেশীর গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলে। বিশেষ করে একটি বালুর মাঠকে ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেশি। সন্ধ্যার পর সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জড়ো হতে দেখা যায় বলে তাদের অভিযোগ।

আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় মুঠোফোনে এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। পরে সেখানে প্রায় ২৫ জন জড়ো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা একটি বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং শুরুতেই আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালায়।

রাজধানীর কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বড়দেশীর গ্রামের  ভেতরের অনেক এলাকায় এখনো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বেশ কিছু এলাকায় পাকা রাস্তা নেই। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত চলাচলেও সমস্যা হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, বড়দেশীর গ্রামের অনেক এলাকায় এখনো পাকা রাস্তা নেই। ফলে পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা ও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যা হয়। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বড়দেশীর বর্তমান পরিস্থিতিকে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি বড়দেশীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান না চালালে এলাকায় অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

এছাড়াও যেভাবে কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়ে চলছে তা সাধারণ মানুষের উৎকন্ঠার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ এবং প্রোয়জন সাপেক্ষে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত