ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় সংবাদ সম্মেলন

তনু হত্যা মামলায় হাফিজুরের জিজ্ঞাসাবাদ-কারাভোগে পরিবারের উদ্বেগ



তনু হত্যা মামলায় হাফিজুরের জিজ্ঞাসাবাদ-কারাভোগে পরিবারের উদ্বেগ
ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

২০১৬ সালের আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তনু হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগ দেন এবং প্রায় ৩২ বছর চাকরি শেষে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাভাবিক অবসরে যান। তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের আগে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে তনুর ফোনে যোগাযোগ হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ১৮ মার্চ অনুষ্ঠান শুরুর আগে পুনরায় ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তনু শ্রীমঙ্গলে অবস্থানের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান।

পরিবারের ভাষ্য, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় হাফিজুর রহমান তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন এবং পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন। হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলেও পরিবারের দাবি।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ও ১৮ মার্চ ২০১৬ সালের ফোন যোগাযোগকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল পিবিআইয়ের সদস্যরা হাফিজুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তিন দিনের রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরিবারের দাবি, ২৪ জুন আদালতে দাখিল করা ডিএনএ প্রতিবেদনে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তনুর মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ প্রোফাইলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

এরপর ২ আগস্ট হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। তবে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ তাঁর জামিন স্থগিত করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার পর ৭ আগস্ট হাফিজুর রহমান স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে হাজতবাস করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার এজাহারে হাফিজুর রহমানের নাম নেই; বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও তাঁর সঙ্গে মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

পরিবারটি বলছে, আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। একতরফা বা নেতিবাচক প্রচারণা কোনো ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে অযথা হয়রানি বন্ধ, তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং তনু হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে পরিবারটি।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার তদন্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয় এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধানই তাঁদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তনু হত্যা মামলায় হাফিজুরের জিজ্ঞাসাবাদ-কারাভোগে পরিবারের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০১৬ সালের আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তনু হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগ দেন এবং প্রায় ৩২ বছর চাকরি শেষে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাভাবিক অবসরে যান। তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের আগে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে তনুর ফোনে যোগাযোগ হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ১৮ মার্চ অনুষ্ঠান শুরুর আগে পুনরায় ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তনু শ্রীমঙ্গলে অবস্থানের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান।

পরিবারের ভাষ্য, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় হাফিজুর রহমান তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন এবং পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন। হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলেও পরিবারের দাবি।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ও ১৮ মার্চ ২০১৬ সালের ফোন যোগাযোগকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল পিবিআইয়ের সদস্যরা হাফিজুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তিন দিনের রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরিবারের দাবি, ২৪ জুন আদালতে দাখিল করা ডিএনএ প্রতিবেদনে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তনুর মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ প্রোফাইলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

এরপর ২ আগস্ট হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। তবে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ তাঁর জামিন স্থগিত করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার পর ৭ আগস্ট হাফিজুর রহমান স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে হাজতবাস করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার এজাহারে হাফিজুর রহমানের নাম নেই; বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও তাঁর সঙ্গে মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

পরিবারটি বলছে, আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। একতরফা বা নেতিবাচক প্রচারণা কোনো ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে অযথা হয়রানি বন্ধ, তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং তনু হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে পরিবারটি।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তনু হত্যা মামলার তদন্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয় এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধানই তাঁদের প্রত্যাশা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত