ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

মহেশখালীতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ১



মহেশখালীতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি ভাড়া বাসা থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নয়ন উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহেশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে বাশি জানান, কয়েকদিন আগে মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরে মোতাহেরা বেগমের মালিকানাধীন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি, তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। ওই ঘরে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে বলেও তিনি পুলিশকে জানান।

পরে বিষয়টি মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। গ্রেপ্তার বাশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরের ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, পরে গ্রেপ্তার বাশির দেখিয়ে দেওয়া এবং তার নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ওই কক্ষের খাটের নিচ থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—বন্দুকের কাঠের বাট ৪টি, ট্রিগার ম্যাকানিজম ৪টি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ৬টি, ট্রিগার ৮টি, রিসিভার কভার সদৃশ অংশ ৫টি, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং ১৫টি, অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি ২টি, লেদ মেশিন ১টি, লোহার বাটাল ২টি, লোহার পাইপ ১টি, ড্রিল মেশিন ১টি, স্ক্রু ড্রাইভার ৩টি, করাত ১টি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন ১টি, পরিমাপ স্কেল ১টি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার ১টি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার ১টি, দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ১টি, বড় টর্চলাইট ১টি, ইলেকট্রিক হ্যাকসো ১টি এবং লোহা কাটার হ্যান্ড করাত ১টি।

পুলিশ আরও জানায়, বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৫ এবং জিআর-২৫৫/২৬। মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহেশখালীতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ১

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি ভাড়া বাসা থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নয়ন উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহেশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে বাশি জানান, কয়েকদিন আগে মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরে মোতাহেরা বেগমের মালিকানাধীন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি, তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। ওই ঘরে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে বলেও তিনি পুলিশকে জানান।

পরে বিষয়টি মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। গ্রেপ্তার বাশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরের ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, পরে গ্রেপ্তার বাশির দেখিয়ে দেওয়া এবং তার নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ওই কক্ষের খাটের নিচ থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—বন্দুকের কাঠের বাট ৪টি, ট্রিগার ম্যাকানিজম ৪টি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ৬টি, ট্রিগার ৮টি, রিসিভার কভার সদৃশ অংশ ৫টি, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং ১৫টি, অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি ২টি, লেদ মেশিন ১টি, লোহার বাটাল ২টি, লোহার পাইপ ১টি, ড্রিল মেশিন ১টি, স্ক্রু ড্রাইভার ৩টি, করাত ১টি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন ১টি, পরিমাপ স্কেল ১টি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার ১টি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার ১টি, দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ১টি, বড় টর্চলাইট ১টি, ইলেকট্রিক হ্যাকসো ১টি এবং লোহা কাটার হ্যান্ড করাত ১টি।

পুলিশ আরও জানায়, বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৫ এবং জিআর-২৫৫/২৬। মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত