ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

নদী ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা কৃষকরা

সরাইলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি কাটছে ভূমিদস্যুরা



সরাইলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি কাটছে ভূমিদস্যুরা
ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামে নদী ভাঙন ঠেকাতে যেখানে সরকারি অর্থায়নে জিও ব্যাগ ফেলে বারবার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, ঠিক তখনই অন্য পিঠে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তাণ্ডব চালাচ্ছে একদল ভূমিদস্যু। সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বড় বড় স্টিলের নৌকা (কার্গো) নিয়ে দিন-রাত ফসলি জমি ও নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙনের হাত থেকে গ্রাম ও ফসলি জমি রক্ষা করতে সরকারি বরাদ্দে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। তবে একই এলাকা থেকে প্রতিদিন নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে নদী ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

মাটিভর্তি বড় বড় স্টিলের নৌকাগুলো নদী দিয়ে যাতায়াত করার সময় সৃষ্ট তীব্র ঢেউয়ের কারণে স্থানীয় বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমিতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, আর তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী মানুষজন।ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, "ভূমিদস্যুদের ক্ষমতার দাপট ও ভয়ের কারণে আমরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। চোখের সামনে আমাদের শেষ সম্বল ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।" কৃষকরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এলাকায় মাটি কাটা বন্ধে মাইকিং করা হলেও ভূমিদস্যুরা সেই নিষেধাজ্ঞাকে কোনো তোয়াক্কাই করছে না। মাইকিংয়ের পরও তারা তাদের কার্যক্রম বহাল রেখেছে।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই ভূমিদস্যু চক্রটি কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর মাটি কাটার জন্য একটি আবেদন করেছিল। বর্তমানে সেই আবেদনের অজুহাত বা সূত্র ব্যবহার করেই তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ কাজ অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের কঠোর জরুরি অভিযান এবং ফসলি জমি রক্ষায় স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন আজবপুরের দিশেহারা এলাকাবাসী ও বিপাকে পড়া কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরাইলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি কাটছে ভূমিদস্যুরা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামে নদী ভাঙন ঠেকাতে যেখানে সরকারি অর্থায়নে জিও ব্যাগ ফেলে বারবার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, ঠিক তখনই অন্য পিঠে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তাণ্ডব চালাচ্ছে একদল ভূমিদস্যু। সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বড় বড় স্টিলের নৌকা (কার্গো) নিয়ে দিন-রাত ফসলি জমি ও নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙনের হাত থেকে গ্রাম ও ফসলি জমি রক্ষা করতে সরকারি বরাদ্দে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। তবে একই এলাকা থেকে প্রতিদিন নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে নদী ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

মাটিভর্তি বড় বড় স্টিলের নৌকাগুলো নদী দিয়ে যাতায়াত করার সময় সৃষ্ট তীব্র ঢেউয়ের কারণে স্থানীয় বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমিতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, আর তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী মানুষজন।ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, "ভূমিদস্যুদের ক্ষমতার দাপট ও ভয়ের কারণে আমরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। চোখের সামনে আমাদের শেষ সম্বল ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।" কৃষকরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এলাকায় মাটি কাটা বন্ধে মাইকিং করা হলেও ভূমিদস্যুরা সেই নিষেধাজ্ঞাকে কোনো তোয়াক্কাই করছে না। মাইকিংয়ের পরও তারা তাদের কার্যক্রম বহাল রেখেছে।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই ভূমিদস্যু চক্রটি কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর মাটি কাটার জন্য একটি আবেদন করেছিল। বর্তমানে সেই আবেদনের অজুহাত বা সূত্র ব্যবহার করেই তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ কাজ অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের কঠোর জরুরি অভিযান এবং ফসলি জমি রক্ষায় স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন আজবপুরের দিশেহারা এলাকাবাসী ও বিপাকে পড়া কৃষকরা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত