সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে টানা গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি, হাইয়েস ও বাসচালকেরা। গ্যাসের অপেক্ষায় ২৪ থেকে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে। অনেকে আবার গ্যাসের আশায় নিজ নিজ যানবাহনেই রাত কাটিয়েছেন। দীর্ঘ এ সংকটের কারণে সড়কে সিএনজির সংখ্যাও কমে গেছে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের অ্যালবাট্রস এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা সেবা পাচ্ছেন না।
এনায়েতপুর-বেলকুচি সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি গ্যাস নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গ্যাস পাননি। তিনি বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই। এভাবে একদিন বসে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
ধানগড়া-কাঠেরপুল রুটের সিএনজি চালক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “২৭ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। বাড়ি দূরে হওয়ায় রাতে সিএনজিতেই ঘুমিয়েছি। এখনো জানি না কখন গ্যাস পাব।”
একইভাবে পাইকোশা রোডের সিএনজি চালক মো. ইয়াছিন জানান, তিনি ২৮ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে বুধবার প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছিলেন চালকেরা। এরপরও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।” হাইয়েস চালক মো. জিহাদ বলেন, “গ্যাসের জন্য এসেছি, কিন্তু গ্যাস না থাকায় অপেক্ষা করছি। সময় কাটাতে গাড়ি পরিষ্কার করছি।”
বাসচালক মো. পারভেজ জানান, বুধবার থেকেই তিনি সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করছেন। রাতে বাসেই অবস্থান করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালেও গ্যাস পাননি।
অ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেড সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. পলাশ বলেন, “বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই একই পরিস্থিতি। সরবরাহ পেলেই আমরা গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পারব।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
দীর্ঘস্থায়ী এ গ্যাস সংকটে পরিবহন খাতের চালকদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদেরও বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে টানা গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি, হাইয়েস ও বাসচালকেরা। গ্যাসের অপেক্ষায় ২৪ থেকে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে। অনেকে আবার গ্যাসের আশায় নিজ নিজ যানবাহনেই রাত কাটিয়েছেন। দীর্ঘ এ সংকটের কারণে সড়কে সিএনজির সংখ্যাও কমে গেছে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের অ্যালবাট্রস এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা সেবা পাচ্ছেন না।
এনায়েতপুর-বেলকুচি সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি গ্যাস নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গ্যাস পাননি। তিনি বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই। এভাবে একদিন বসে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
ধানগড়া-কাঠেরপুল রুটের সিএনজি চালক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “২৭ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। বাড়ি দূরে হওয়ায় রাতে সিএনজিতেই ঘুমিয়েছি। এখনো জানি না কখন গ্যাস পাব।”
একইভাবে পাইকোশা রোডের সিএনজি চালক মো. ইয়াছিন জানান, তিনি ২৮ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে বুধবার প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছিলেন চালকেরা। এরপরও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।” হাইয়েস চালক মো. জিহাদ বলেন, “গ্যাসের জন্য এসেছি, কিন্তু গ্যাস না থাকায় অপেক্ষা করছি। সময় কাটাতে গাড়ি পরিষ্কার করছি।”
বাসচালক মো. পারভেজ জানান, বুধবার থেকেই তিনি সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করছেন। রাতে বাসেই অবস্থান করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালেও গ্যাস পাননি।
অ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেড সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. পলাশ বলেন, “বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই একই পরিস্থিতি। সরবরাহ পেলেই আমরা গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পারব।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
দীর্ঘস্থায়ী এ গ্যাস সংকটে পরিবহন খাতের চালকদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদেরও বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন