ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

বাগেরহাটে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ



বাগেরহাটে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ

বাগেরহাটের তিনটি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ঢাকায় ফিরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই)তিনি বাগেরহাট সদর ২৫০শয্যা হাসপাতাল,মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা সহ তিন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

ঐদিন সকাল ১১টার দিকে সড়কপথে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ শোনেন। পরে স্টক রেজিস্টার পর্যালোচনা ও বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই, সিরিঞ্জসহ নানা চিকিৎসাসামগ্রী স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এমনকি শৌচাগারের ভেতরে নানা ধরনের ঔষধ দেখতে পান মন্ত্রী ।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডা. কামাল হোসেন মুফতি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বায়োমেট্রিক হাজিরা রেজিস্টারও পরীক্ষা করে কয়েকজন চিকিৎসকের আসা-যাওয়ার সময়ে অসঙ্গতি দেখতে পান মন্ত্রী। জনসাধারণের 

অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল চত্বরে ইউএইচ অ্যান্ড এফপিওর সরকারি বাসভবনও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেখতে পান, ডা. কামাল  এর ভাই এর একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় তাকে তিরস্কার করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান মন্ত্রীকে। কে এই ছুটি অনুমোদন করেছেন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, তিনি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে মৌখিক ছুটি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনকে ফোন করলে তিনি সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

পরে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এরপর তিনি শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগে এক সিনিয়র নার্সকে তিরস্কার করেন তিনি। এ সময় ভুক্তভোগী রোগীকে মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে পুনরায় এমন আচরণের শিকার হলে সরাসরি তাকে ফোন করার নির্দেশ দেন।

বিকেলে সবশেষে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ওয়ার্ড, রান্নাঘর, শৌচাগার ও গুদামঘর পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসক সংকট দূর করতে দ্রুত পদায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রসব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক। এই সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চার মাসে বাংলাদেশের মতো এত বড় দেশের সব হাসপাতাল পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। যেখানেই রিপোর্ট পাই, আমি ছুটে যাই। আজ এখানে এসে সবকিছু দেখেছি, নোট করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম ও বিচ্যুতি রয়েছে। আমাকে ঢাকায় ফিরতে দিন। আমার ওপরও কর্তৃপক্ষ আছে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং জনস্বার্থে যা যা দরকার, তা করব।’

উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ—দুই হাসপাতালে শিগগির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাগেরহাটে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের তিনটি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ঢাকায় ফিরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই)তিনি বাগেরহাট সদর ২৫০শয্যা হাসপাতাল,মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা সহ তিন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

ঐদিন সকাল ১১টার দিকে সড়কপথে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ শোনেন। পরে স্টক রেজিস্টার পর্যালোচনা ও বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই, সিরিঞ্জসহ নানা চিকিৎসাসামগ্রী স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এমনকি শৌচাগারের ভেতরে নানা ধরনের ঔষধ দেখতে পান মন্ত্রী ।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডা. কামাল হোসেন মুফতি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বায়োমেট্রিক হাজিরা রেজিস্টারও পরীক্ষা করে কয়েকজন চিকিৎসকের আসা-যাওয়ার সময়ে অসঙ্গতি দেখতে পান মন্ত্রী। জনসাধারণের 

অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল চত্বরে ইউএইচ অ্যান্ড এফপিওর সরকারি বাসভবনও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেখতে পান, ডা. কামাল  এর ভাই এর একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় তাকে তিরস্কার করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান মন্ত্রীকে। কে এই ছুটি অনুমোদন করেছেন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, তিনি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে মৌখিক ছুটি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনকে ফোন করলে তিনি সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

পরে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এরপর তিনি শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগে এক সিনিয়র নার্সকে তিরস্কার করেন তিনি। এ সময় ভুক্তভোগী রোগীকে মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে পুনরায় এমন আচরণের শিকার হলে সরাসরি তাকে ফোন করার নির্দেশ দেন।

বিকেলে সবশেষে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ওয়ার্ড, রান্নাঘর, শৌচাগার ও গুদামঘর পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসক সংকট দূর করতে দ্রুত পদায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রসব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক। এই সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চার মাসে বাংলাদেশের মতো এত বড় দেশের সব হাসপাতাল পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। যেখানেই রিপোর্ট পাই, আমি ছুটে যাই। আজ এখানে এসে সবকিছু দেখেছি, নোট করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম ও বিচ্যুতি রয়েছে। আমাকে ঢাকায় ফিরতে দিন। আমার ওপরও কর্তৃপক্ষ আছে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং জনস্বার্থে যা যা দরকার, তা করব।’

উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ—দুই হাসপাতালে শিগগির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত