নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরিষদ থেকে এমন সব ব্যক্তির নামে জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়েছে, যাদের অস্তিত্ব দেশের কোথাও নেই। তারা কাগজে-কলমে নাগরিক, কিন্তু বাস্তবে ভূতুড়ে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা ৪টি জন্ম সনদে দেখা যায়, ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু সনদে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দড়িচর-নোয়াকান্দা, উত্তর চন্দন-জিনারদী, বালিয়া-সরকারখানা ও মালিতা-চরসিন্দুর। যা ডাংগা ইউনিয়নের বাইরের অন্য ইউনিয়নের এলাকা।
প্রশাসকের স্ববিরোধী বক্তব্য, ফেঁসে গেল জালিয়াতি:এ বিষয়ে ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, "যে ঠিকানাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এগুলো ফেক হতে পারে, আপনারা অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।"
কিন্তু যখন অনলাইনে যাচাই করার কথা বলা হয়, তখন তিনি সুর পাল্টে বলেন, "আমি ইউনিয়ন সচিবের কাছ থেকে অনলাইন চার্জ দিয়ে যাচাই করে দেখেছি, এগুলো ডাংগা ইউনিয়নের লোক, তাদের ঠিকানা কেন্দুয়াব গ্রামে।"
তার এই স্ববিরোধী বক্তব্যেই প্রমাণ হয়, সনদগুলো ভূয়া কাগজ নয়, বরং সরকারি সার্ভার bdris.gov.bd থেকেই ইস্যু করা হয়েছে। কারণ ভূয়া বা ফটোশপ করা কাগজ কখনোই সরকারি সার্ভারে শো করে না।
অথচ এর আগে সচিব দাবি করেছিলেন, এগুলো "ট্রেনিং এর সময় বানানো হয়েছে"। প্রশিক্ষণের কাগজে কখনোই সচিবের মূল সিল-স্বাক্ষর ও সার্ভার এন্ট্রি থাকে না।
কেন্দুয়াবেও নেই, অন্য ইউনিয়নেও নেই:সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রশাসকের দাবি করা কেন্দুয়াব গ্রামে গিয়ে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এখানেই শেষ নয়, আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, যে অন্য ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেও তাদের অস্তিত্ব নেই। প্রতিবেদক সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চৌকিদারদের সাথে নিয়ে দড়িচর, জিনারদী, সরকারখানা ও চরসিন্দুর এলাকায় ঘুরে ঘুরেও ওই নামে কাউকে খুঁজে পাননি। জনপ্রতিনিধিরাও নিশ্চিত করেছেন, এই নামে তাদের এলাকায় কেউ বসবাস করেন না।
মেম্বারের পলায়নই সুযোগ:অনুসন্ধানে জানা যায়, যে ৯ নং ওয়ার্ড কেন্দুয়াব গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য বাদল মিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার ওয়ার্ডে যাচাইকারী না থাকায় এই ভূতুড়ে নিবন্ধনগুলো করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) এর কাছে পাঠান।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার, নরসিংদী মোসাম্মৎ নাদির আক্তার বলেন, "বিষয়টি আমাদের তদন্তে আছে। তদন্ত করে দেখব।"
এদিকে নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ফকির। তার দাবি, "ভূয়া কাগজ বানিয়ে সচিবকে হয়রানি করা হচ্ছে।" তবে সার্ভারে থাকার প্রমাণের পর তার এই দাবি টিকছে না।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরিষদ থেকে এমন সব ব্যক্তির নামে জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়েছে, যাদের অস্তিত্ব দেশের কোথাও নেই। তারা কাগজে-কলমে নাগরিক, কিন্তু বাস্তবে ভূতুড়ে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা ৪টি জন্ম সনদে দেখা যায়, ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু সনদে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দড়িচর-নোয়াকান্দা, উত্তর চন্দন-জিনারদী, বালিয়া-সরকারখানা ও মালিতা-চরসিন্দুর। যা ডাংগা ইউনিয়নের বাইরের অন্য ইউনিয়নের এলাকা।
প্রশাসকের স্ববিরোধী বক্তব্য, ফেঁসে গেল জালিয়াতি:এ বিষয়ে ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, "যে ঠিকানাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এগুলো ফেক হতে পারে, আপনারা অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।"
কিন্তু যখন অনলাইনে যাচাই করার কথা বলা হয়, তখন তিনি সুর পাল্টে বলেন, "আমি ইউনিয়ন সচিবের কাছ থেকে অনলাইন চার্জ দিয়ে যাচাই করে দেখেছি, এগুলো ডাংগা ইউনিয়নের লোক, তাদের ঠিকানা কেন্দুয়াব গ্রামে।"
তার এই স্ববিরোধী বক্তব্যেই প্রমাণ হয়, সনদগুলো ভূয়া কাগজ নয়, বরং সরকারি সার্ভার bdris.gov.bd থেকেই ইস্যু করা হয়েছে। কারণ ভূয়া বা ফটোশপ করা কাগজ কখনোই সরকারি সার্ভারে শো করে না।
অথচ এর আগে সচিব দাবি করেছিলেন, এগুলো "ট্রেনিং এর সময় বানানো হয়েছে"। প্রশিক্ষণের কাগজে কখনোই সচিবের মূল সিল-স্বাক্ষর ও সার্ভার এন্ট্রি থাকে না।
কেন্দুয়াবেও নেই, অন্য ইউনিয়নেও নেই:সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রশাসকের দাবি করা কেন্দুয়াব গ্রামে গিয়ে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এখানেই শেষ নয়, আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, যে অন্য ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেও তাদের অস্তিত্ব নেই। প্রতিবেদক সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চৌকিদারদের সাথে নিয়ে দড়িচর, জিনারদী, সরকারখানা ও চরসিন্দুর এলাকায় ঘুরে ঘুরেও ওই নামে কাউকে খুঁজে পাননি। জনপ্রতিনিধিরাও নিশ্চিত করেছেন, এই নামে তাদের এলাকায় কেউ বসবাস করেন না।
মেম্বারের পলায়নই সুযোগ:অনুসন্ধানে জানা যায়, যে ৯ নং ওয়ার্ড কেন্দুয়াব গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য বাদল মিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার ওয়ার্ডে যাচাইকারী না থাকায় এই ভূতুড়ে নিবন্ধনগুলো করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) এর কাছে পাঠান।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার, নরসিংদী মোসাম্মৎ নাদির আক্তার বলেন, "বিষয়টি আমাদের তদন্তে আছে। তদন্ত করে দেখব।"
এদিকে নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ফকির। তার দাবি, "ভূয়া কাগজ বানিয়ে সচিবকে হয়রানি করা হচ্ছে।" তবে সার্ভারে থাকার প্রমাণের পর তার এই দাবি টিকছে না।

আপনার মতামত লিখুন