ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

চার দশকের রাজপথ পেরিয়ে জেলা বিএনপিতে রঞ্জনের প্রত্যাশা



চার দশকের রাজপথ পেরিয়ে জেলা বিএনপিতে রঞ্জনের প্রত্যাশা

মো. রকিবুল ইসলাম : প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, একাধিকবার কারাবরণ এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর হাসান (রঞ্জন)। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই তিনি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

রাশেদুর হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক পথচলার সূচনা আশির দশকের শুরুতে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হন। পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সিরাজগঞ্জ সফরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ধানের শীষের মিছিলে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সিরাজগঞ্জ সফর ঘিরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে পাবনা জেলা কারাগারে টানা ৯ মাস ৯ দিন বন্দি ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মোট ছয়বার কারাভোগ করেন, যার সম্মিলিত সময় প্রায় তিন বছর।

কারামুক্তির পর ছাত্ররাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন রঞ্জন। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে পরপর দুইবার সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এবং পরে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। জিএস থাকাকালীন জেলা ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রায় ১২ বছর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রঞ্জনের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কমিটি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রায় দুই শতাধিক মামলাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার, মামলা এবং আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে তিনি ২১ বার কারাগারে যান এবং দীর্ঘ সময় পলাতক জীবন কাটান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্ত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর চাকরি করার পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারান এবং তাঁদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

রঞ্জনের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নথি পর্যালোচনা করলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পারিবারিকভাবেও বিএনপির রাজনীতির ধারাবাহিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আবরার হামীম (আপন) বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলকে সামনে রেখে রাশেদুর হাসান রঞ্জন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রত্যাশা করছেন। তাঁর মতে, দলের আগামী দিনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত গ্রেপ্তার, মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও অন্যান্য অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্যগুলো রাশেদুর হাসান (রঞ্জন)-এর দাবি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চার দশকের রাজপথ পেরিয়ে জেলা বিএনপিতে রঞ্জনের প্রত্যাশা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

মো. রকিবুল ইসলাম : প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, একাধিকবার কারাবরণ এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর হাসান (রঞ্জন)। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই তিনি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

রাশেদুর হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক পথচলার সূচনা আশির দশকের শুরুতে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হন। পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সিরাজগঞ্জ সফরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ধানের শীষের মিছিলে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সিরাজগঞ্জ সফর ঘিরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে পাবনা জেলা কারাগারে টানা ৯ মাস ৯ দিন বন্দি ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মোট ছয়বার কারাভোগ করেন, যার সম্মিলিত সময় প্রায় তিন বছর।

কারামুক্তির পর ছাত্ররাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন রঞ্জন। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে পরপর দুইবার সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এবং পরে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। জিএস থাকাকালীন জেলা ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রায় ১২ বছর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রঞ্জনের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কমিটি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রায় দুই শতাধিক মামলাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার, মামলা এবং আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে তিনি ২১ বার কারাগারে যান এবং দীর্ঘ সময় পলাতক জীবন কাটান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্ত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর চাকরি করার পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারান এবং তাঁদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

রঞ্জনের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নথি পর্যালোচনা করলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পারিবারিকভাবেও বিএনপির রাজনীতির ধারাবাহিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আবরার হামীম (আপন) বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলকে সামনে রেখে রাশেদুর হাসান রঞ্জন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রত্যাশা করছেন। তাঁর মতে, দলের আগামী দিনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত গ্রেপ্তার, মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও অন্যান্য অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্যগুলো রাশেদুর হাসান (রঞ্জন)-এর দাবি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত