ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

বান্দরবানে পাহাড়ধসে নিহত পরিবারগুলোর পাশে জামায়াত, নগদ অর্থ বিতরণ



বান্দরবানে পাহাড়ধসে নিহত পরিবারগুলোর পাশে জামায়াত, নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নিহত দুই পরিবারের স্বজনদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর এম এস আব্দুছ ছালাম আজাদ।

এর আগে জামায়াত নেতৃবৃন্দ পাহাড়ধসে নিহত পাঁচজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা এবং মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় অসহায়, দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

তিনি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারের এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করছি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড়ধসে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের ছেলে মো. সোলেমান (৫)।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং বান্দরবান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল।

অনুষ্ঠানে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান, আজিজনগর ইউনিয়ন সভাপতি ডা. ফরিদুল আলম, স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বান্দরবানে পাহাড়ধসে নিহত পরিবারগুলোর পাশে জামায়াত, নগদ অর্থ বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নিহত দুই পরিবারের স্বজনদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর এম এস আব্দুছ ছালাম আজাদ।

এর আগে জামায়াত নেতৃবৃন্দ পাহাড়ধসে নিহত পাঁচজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা এবং মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় অসহায়, দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

তিনি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারের এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করছি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড়ধসে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের ছেলে মো. সোলেমান (৫)।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং বান্দরবান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল।

অনুষ্ঠানে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান, আজিজনগর ইউনিয়ন সভাপতি ডা. ফরিদুল আলম, স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত