ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

ছয় মাসে ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬০ শিক্ষার্থী, আহত ১০৯

মিরসরাই ট্রাজেডির রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা জরুরি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি



মিরসরাই ট্রাজেডির রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা জরুরি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী : মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু না থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বিবৃতিতে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে শুধু নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে না, একটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল জাতিও গড়ে উঠবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ও নিয়মিত কর্মসূচির অভাব রয়েছে।

মিরসরাই ট্রাজেডির স্মরণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

তার দাবি, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই সচেতনতামূলক কর্মসূচি গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিবছরই নতুন নতুন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী- জানুয়ারি: ৫৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭, আহত ২২ জন। ফেব্রুয়ারি: ৩৯ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭, আহত ১১ জন। মার্চ: ৫৯ দুর্ঘটনায় নিহত ৬৭, আহত ১ জন। এপ্রিল: ৫১ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৬, আহত ২৫ জন। মে: ৬১ দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩, আহত ২৩ জন। জুন: ৫৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৬০, আহত ২৭ জন।

শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সংগঠনটি। 

১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা।

২. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসে অন্তত একবার সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।

৪. মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য “রোড সেফটি গার্ড” নিয়োগ করা।

৫. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

বিবৃতির শেষে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডি আমাদের জন্য এক বেদনাদায়ক শিক্ষা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে হলে এখনই শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বাধ্যতামূলক সচেতনতা কার্যক্রম চালু করতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিরসরাই ট্রাজেডির রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা জরুরি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী : মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু না থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বিবৃতিতে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে শুধু নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে না, একটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল জাতিও গড়ে উঠবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ও নিয়মিত কর্মসূচির অভাব রয়েছে।

মিরসরাই ট্রাজেডির স্মরণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

তার দাবি, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই সচেতনতামূলক কর্মসূচি গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিবছরই নতুন নতুন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী- জানুয়ারি: ৫৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭, আহত ২২ জন। ফেব্রুয়ারি: ৩৯ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭, আহত ১১ জন। মার্চ: ৫৯ দুর্ঘটনায় নিহত ৬৭, আহত ১ জন। এপ্রিল: ৫১ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৬, আহত ২৫ জন। মে: ৬১ দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩, আহত ২৩ জন। জুন: ৫৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৬০, আহত ২৭ জন।

শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সংগঠনটি। 

১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা।

২. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসে অন্তত একবার সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।

৪. মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য “রোড সেফটি গার্ড” নিয়োগ করা।

৫. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

বিবৃতির শেষে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডি আমাদের জন্য এক বেদনাদায়ক শিক্ষা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে হলে এখনই শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বাধ্যতামূলক সচেতনতা কার্যক্রম চালু করতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত