ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের

যমুনার ভয়াল থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে চরগিরিশ



যমুনার ভয়াল থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে চরগিরিশ

মোঃ রকিবুল ইসলাম : যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করা ভাঙনে গত এক মাসেই প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটা, কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটছে যমুনাপাড়ের হাজারো মানুষের।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর যমুনার ভাঙনে ভেটুয়া ও পশ্চিম চরগিরিশ গ্রামের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চলতি বছরও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গত এক মাসে মোমিন, কোহিনুর খাতুন, রফিকুল ইসলাম ও রোজাউল করিমসহ প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়তে থাকায় নতুন করে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষ।

ভাঙনের মুখে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নবনির্মিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির দিকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে যমুনার ভাঙন। এছাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের বড় একটি অংশ।

চরগিরিশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমাজসেবক আলহাজ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের গতি অত্যন্ত ভয়াবহ। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র। এটি রক্ষা করা না গেলে শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় থেকে কয়েকশ গজ দূরেই যমুনা নদী অবস্থান করছে। প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ড সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, যেভাবে ভাঙন এগিয়ে আসছে, তাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি এবং অসংখ্য বসতঘর নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যমুনার ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙন রোধে অতীতেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে এবারও একই পরিণতির শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার চরাঞ্চল বিস্তীর্ণ হওয়ায় ছোট পরিসরের ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এখানে দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ প্রকল্প প্রয়োজন। আমরা সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই কমে আসছে চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের অস্তিত্ব। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দশকের পুরোনো এই জনপদ অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যমুনার ভয়াল থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে চরগিরিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

মোঃ রকিবুল ইসলাম : যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করা ভাঙনে গত এক মাসেই প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটা, কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটছে যমুনাপাড়ের হাজারো মানুষের।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর যমুনার ভাঙনে ভেটুয়া ও পশ্চিম চরগিরিশ গ্রামের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চলতি বছরও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গত এক মাসে মোমিন, কোহিনুর খাতুন, রফিকুল ইসলাম ও রোজাউল করিমসহ প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়তে থাকায় নতুন করে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষ।

ভাঙনের মুখে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নবনির্মিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির দিকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে যমুনার ভাঙন। এছাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের বড় একটি অংশ।

চরগিরিশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমাজসেবক আলহাজ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের গতি অত্যন্ত ভয়াবহ। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র। এটি রক্ষা করা না গেলে শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় থেকে কয়েকশ গজ দূরেই যমুনা নদী অবস্থান করছে। প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ড সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, যেভাবে ভাঙন এগিয়ে আসছে, তাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি এবং অসংখ্য বসতঘর নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যমুনার ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙন রোধে অতীতেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে এবারও একই পরিণতির শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার চরাঞ্চল বিস্তীর্ণ হওয়ায় ছোট পরিসরের ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এখানে দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ প্রকল্প প্রয়োজন। আমরা সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই কমে আসছে চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামের অস্তিত্ব। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দশকের পুরোনো এই জনপদ অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত