ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সেন্টমার্টিনের আবু তালেবের বিরুদ্ধে

টেকনাফে যাত্রী পারাপারের আড়ালে ইয়াবা-আইস পাচারের অভিযোগ



টেকনাফে যাত্রী পারাপারের আড়ালে ইয়াবা-আইস পাচারের অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজারের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন যেখানে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কাঠের তৈরী নৌকা অথবা স্পিড বোট। সেন্টমার্টিনের ৯০ ভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে। কিন্তু এই মাছ ধরার আড়ালে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত পাচার করছে মরণ নেশা ইয়াবা ও আইস।

মায়ানমার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব বেশি নয়। মাছ ধরার নৌকাগুলো বঙ্গোপসাগরে বের হলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে অতি সহজেই মায়ানমারের জলসীমায় পৌঁছানো যায়। 

অগ্নিশিখার অনুসন্ধানে একটি মাদক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এই চক্রের মূলহোতা সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু তালেব। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বোট মালিক সমিতির প্রভাবশালী সভাপতি ছিলেন। তার রয়েছে দুইটি নৌকা। একটি নৌকা দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ যাত্রী পারাপারের কাজে ব্যবহার হলেও আরেকটি নৌকা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা ভর্তি ইয়াবা-আইসের চালান নিয়ে ফিরেন আবু তালেব এবং তার সঙ্গীরা। তার এই মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন।

অনুসন্ধানে জানা যায় আজ থেকে ২/৩ বছর পূর্বে টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ আইসসহ আবু তালেবের একটি নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। আইসসহ গ্রেপ্তার হয় ৪ জন কিন্তু মামলা থেকে রহস্যজনক কারণে বাদ পড়ে যায় নৌকার মালিক আবু তালেবের নাম। আইসের সাথে নৌকাটি জব্দের ২-৩ মাসের মধ্যে আদালত থেকে নৌকাটি জামিনে বের করে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায় আবু তালেব দীর্ঘদিন যাবত সাগরে মাছ ধরার আড়ালে মাদক পাচারে জড়িয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে মাছ ধরার কৌশল বেছে নিয়েছেন আবু তালেব যার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের মাদক পাচারের মামলা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেন্ট মার্টিন পূর্ব পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান আবু তালেব সাগরে মাছ ধরার আড়ালে মায়ানমার থেকে বস্তায় বস্তায় ইয়াবা-আইস নিয়ে আসে। সে ৫-৭ বছর যাবত মাদক কারবারে জড়িত বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। 

আবু তালেবের নৌকায় কাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ আইসসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন যাবত কারাভোগ করছেন এমন একটি পরিবারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আটক ব্যক্তির নাম ইমরান হোসেন। বিশ বছরের এই যুবক বিয়ে করার ৩-৪ বছর পর মামলার ফাঁদে পড়ে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত কারাভোগ করছেন বলে জানান তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার। কান্নাজড়িত কন্ঠে নাসিমা আক্তার জানান আমার স্বামী ছিলো একজন সহজসরল মানুষ তিনি সবসময় মানুষের কথা বিশ্বাস করতেন। ইমরান সেন্টমার্টিন কোনারপাড়ার বাসিন্দা আর আবু তালেব সেন্টমার্টিন পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিলো। ইমরানের স্ত্রী জানান ঘটনার সময় সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো সরকার তখন আমার স্বামীর কোন কাজ ছিলোনা এই অবস্থায় আবু তালেব এসে আমার স্বামীকে বললো টেকনাফ থেকে সিমেন্ট এবং খাদ্যপণ্য নিয়ে তার নৌকা মায়ানমারে যায় চাইলে ইমরান তুমি সেখানে কাজ করতে পারো। অভাবের সংসার একদিন বসে থাকলে খাবার জোটেনা তাদের সংসারে। আবু তালেবের এই কথায় রাজি হয় ইমরান এবং ৩-৪ দিন নৌকায় কাজ করেন। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তাদের নৌকায় অভিযান চালায় বিজিবি সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২ কেজির অধিক আইস, গ্রেপ্তার করা হয় ইমরানসহ নৌকায় থাকা ৪ জনকে। 

ইমরানের স্ত্রী আরও জানান তার স্বামী জানত মায়ানমারে শুধু সিমেন্ট আর খাদ্যপণ্য পাঠাবে কিন্তু কোন মাদকের কথা তিনি জানতেন না। 

এরপর থেকে বের হয়ে আসে আবু তালেবের আসল মুখোশ প্রতিনিয়ত ইমরানের স্ত্রীর অসহায়ত্ব কে পুজি করে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে। আবু তালেবের কুদৃষ্টি আর অনৈতিক প্রস্তাবের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সেন্টমার্টিন ছাড়তে বাধ্য হয় নাসিমা আক্তার। এখন মায়ের অভাবের সংসারের বোঝা হয়ে দিন কাটলেও মানসিক যন্ত্রণা আর আবু তালেবের কুপ্রস্তাব শোনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারছেন না তিনি। 

তিনি জানান মোবাইলে স্বামীর মামলা জামিন করানোর কথা বলে নাসিমাকে কখনো হোটেলে আবার কখনো বন্ধুর বাড়িতে, কখনোবা কক্সবাজারে আসার প্রস্তাব দেন বলে জানান নাসিমা। এতকিছুর পরও অসহায় নাসিমা আবু তালেবের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। নাসিমা জানান যেকোন মূল্যে তার স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে, নয়তো তার জীবনে নেমে আসবে এক কালো অধ্যায়।

এসময় নাসিমা মনে ক্ষোভ আর কষ্ট নিয়ে জানান অসহায়ত্বের কথা। সেন্টমার্টিনে শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায় আবু তালেব তাকে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির মানুষ কোন প্রতিবাদ করেননি। আবু তালেব তার স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন বলে জানান নাসিমা। এমন কয়েকটি কলরেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব বলেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ২/৩ বছর আগে আমার একটি সিমেন্ট বোঝাই নৌকায় আইস দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোন মাদক কারবারের সাথে জড়িত না বলে জানান আবু তালেব। 


আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টেকনাফে যাত্রী পারাপারের আড়ালে ইয়াবা-আইস পাচারের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন যেখানে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কাঠের তৈরী নৌকা অথবা স্পিড বোট। সেন্টমার্টিনের ৯০ ভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে। কিন্তু এই মাছ ধরার আড়ালে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত পাচার করছে মরণ নেশা ইয়াবা ও আইস।

মায়ানমার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব বেশি নয়। মাছ ধরার নৌকাগুলো বঙ্গোপসাগরে বের হলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে অতি সহজেই মায়ানমারের জলসীমায় পৌঁছানো যায়। 

অগ্নিশিখার অনুসন্ধানে একটি মাদক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এই চক্রের মূলহোতা সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু তালেব। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বোট মালিক সমিতির প্রভাবশালী সভাপতি ছিলেন। তার রয়েছে দুইটি নৌকা। একটি নৌকা দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ যাত্রী পারাপারের কাজে ব্যবহার হলেও আরেকটি নৌকা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা ভর্তি ইয়াবা-আইসের চালান নিয়ে ফিরেন আবু তালেব এবং তার সঙ্গীরা। তার এই মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন।

অনুসন্ধানে জানা যায় আজ থেকে ২/৩ বছর পূর্বে টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ আইসসহ আবু তালেবের একটি নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। আইসসহ গ্রেপ্তার হয় ৪ জন কিন্তু মামলা থেকে রহস্যজনক কারণে বাদ পড়ে যায় নৌকার মালিক আবু তালেবের নাম। আইসের সাথে নৌকাটি জব্দের ২-৩ মাসের মধ্যে আদালত থেকে নৌকাটি জামিনে বের করে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায় আবু তালেব দীর্ঘদিন যাবত সাগরে মাছ ধরার আড়ালে মাদক পাচারে জড়িয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে মাছ ধরার কৌশল বেছে নিয়েছেন আবু তালেব যার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের মাদক পাচারের মামলা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেন্ট মার্টিন পূর্ব পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান আবু তালেব সাগরে মাছ ধরার আড়ালে মায়ানমার থেকে বস্তায় বস্তায় ইয়াবা-আইস নিয়ে আসে। সে ৫-৭ বছর যাবত মাদক কারবারে জড়িত বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। 

আবু তালেবের নৌকায় কাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ আইসসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন যাবত কারাভোগ করছেন এমন একটি পরিবারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আটক ব্যক্তির নাম ইমরান হোসেন। বিশ বছরের এই যুবক বিয়ে করার ৩-৪ বছর পর মামলার ফাঁদে পড়ে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত কারাভোগ করছেন বলে জানান তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার। কান্নাজড়িত কন্ঠে নাসিমা আক্তার জানান আমার স্বামী ছিলো একজন সহজসরল মানুষ তিনি সবসময় মানুষের কথা বিশ্বাস করতেন। ইমরান সেন্টমার্টিন কোনারপাড়ার বাসিন্দা আর আবু তালেব সেন্টমার্টিন পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিলো। ইমরানের স্ত্রী জানান ঘটনার সময় সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো সরকার তখন আমার স্বামীর কোন কাজ ছিলোনা এই অবস্থায় আবু তালেব এসে আমার স্বামীকে বললো টেকনাফ থেকে সিমেন্ট এবং খাদ্যপণ্য নিয়ে তার নৌকা মায়ানমারে যায় চাইলে ইমরান তুমি সেখানে কাজ করতে পারো। অভাবের সংসার একদিন বসে থাকলে খাবার জোটেনা তাদের সংসারে। আবু তালেবের এই কথায় রাজি হয় ইমরান এবং ৩-৪ দিন নৌকায় কাজ করেন। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তাদের নৌকায় অভিযান চালায় বিজিবি সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২ কেজির অধিক আইস, গ্রেপ্তার করা হয় ইমরানসহ নৌকায় থাকা ৪ জনকে। 

ইমরানের স্ত্রী আরও জানান তার স্বামী জানত মায়ানমারে শুধু সিমেন্ট আর খাদ্যপণ্য পাঠাবে কিন্তু কোন মাদকের কথা তিনি জানতেন না। 

এরপর থেকে বের হয়ে আসে আবু তালেবের আসল মুখোশ প্রতিনিয়ত ইমরানের স্ত্রীর অসহায়ত্ব কে পুজি করে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে। আবু তালেবের কুদৃষ্টি আর অনৈতিক প্রস্তাবের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সেন্টমার্টিন ছাড়তে বাধ্য হয় নাসিমা আক্তার। এখন মায়ের অভাবের সংসারের বোঝা হয়ে দিন কাটলেও মানসিক যন্ত্রণা আর আবু তালেবের কুপ্রস্তাব শোনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারছেন না তিনি। 

তিনি জানান মোবাইলে স্বামীর মামলা জামিন করানোর কথা বলে নাসিমাকে কখনো হোটেলে আবার কখনো বন্ধুর বাড়িতে, কখনোবা কক্সবাজারে আসার প্রস্তাব দেন বলে জানান নাসিমা। এতকিছুর পরও অসহায় নাসিমা আবু তালেবের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। নাসিমা জানান যেকোন মূল্যে তার স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে, নয়তো তার জীবনে নেমে আসবে এক কালো অধ্যায়।

এসময় নাসিমা মনে ক্ষোভ আর কষ্ট নিয়ে জানান অসহায়ত্বের কথা। সেন্টমার্টিনে শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায় আবু তালেব তাকে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির মানুষ কোন প্রতিবাদ করেননি। আবু তালেব তার স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন বলে জানান নাসিমা। এমন কয়েকটি কলরেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব বলেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ২/৩ বছর আগে আমার একটি সিমেন্ট বোঝাই নৌকায় আইস দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোন মাদক কারবারের সাথে জড়িত না বলে জানান আবু তালেব। 



অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত