ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সেনাকুঞ্জে শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা স্মারক প্রদান



সেনাকুঞ্জে শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা স্মারক প্রদান
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৯ মে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি চলমান থাকায় এ বছর বিশেষ ব্যবস্থায় বুধবার (১০ জুন) দিবসটির সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Invest in Peace’। দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী পৃথক বাণী প্রদান করেন। এসব বাণী দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক (Carol Flore-Smereczniak)। জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এছাড়া বিশেষ বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা অসীম সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তারা মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ বছর কর্তব্যরত অবস্থায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড (Dag Hammarskjöld) পদক’ প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (রুটিন দায়িত্ব), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ টকশো সম্প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘International Day of United Nations Peacekeepers Journal’-এর ১২তম সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেনাকুঞ্জে শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা স্মারক প্রদান

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৯ মে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি চলমান থাকায় এ বছর বিশেষ ব্যবস্থায় বুধবার (১০ জুন) দিবসটির সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Invest in Peace’। দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী পৃথক বাণী প্রদান করেন। এসব বাণী দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক (Carol Flore-Smereczniak)। জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এছাড়া বিশেষ বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা অসীম সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তারা মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ বছর কর্তব্যরত অবস্থায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড (Dag Hammarskjöld) পদক’ প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (রুটিন দায়িত্ব), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ টকশো সম্প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘International Day of United Nations Peacekeepers Journal’-এর ১২তম সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত