ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ৫০ লাখ টাকা অনুদানের দাবি



নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ৫০ লাখ টাকা অনুদানের দাবি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রার্থীদের ইন্টারভিউর মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী যাচাই পূর্বক স্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিযোগের জন্য বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক বিধিমালা সর্বজন গ্রহণযোগ্য। যথাযথ সচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের বিধান বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানের জন্য আরেকটি বিশেষ বিধান জারী করা যুক্তিযুক্ত ছিল না।

মুসলিম নিকাহ্  রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তড়িঘড়ি করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের বিশেষ বিধানটি জারী করে দ্রুতগতিতে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক শত অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্টারের লাইসেন্স প্রদান করে একটি কুচক্রী মহল কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কুচক্রী মহল অনেক নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের ক্ষতি সাধন করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে চরম বিশৃঙ্খলা বহু মামলা মোকদ্দমা সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি কালো বিধান হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে বিধানটি বিদ্যমান থাকিলেও মন্ত্রনালয়ের আভ্যন্তরিন সিন্ধান্তে অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে বিগত সরকার। ইদানিং সেই কুচক্রী মহলটি সক্রিয় হয়ে অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে বিভ্রান্ত করে পূর্বের ন্যায় অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগ চালু করানোর পায়তারা করছে। 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ বিধান করার দাবিও জানিয়েছে মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ। রাজধানীতে এক  সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ছাব্বীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। মহাসচিব  কাজী মেহেদী হাসান নোমানের সঞ্চালনায় উত্থাপিত দাবিগুলো সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। অন্য দাবিগুলো হলো, বাল্য বিবাহ ও বহু বিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কনের এলাকার নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের অফিস কেন্দ্রীক বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা। কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের অবসরকালীন সময়ে সরকার কর্তৃক এককালীন পঞ্চাশ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা। নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের নিয়োগকালীন অধিক্ষেত্র অবসর পর্যন্ত বহাল রাখা। যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে পুত্র সন্তান নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিধানকে সংশোধন করে পুত্র সন্তানকে সরাসরি নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানে আইন প্রণয়ন করা। ভবিষ্যতে নতুন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য পেশায় স্ববেতনে নিয়োজিত থাকিলে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের অযোগ্যতার বিধান করা। নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ৩২ বছরের বিধান করা। নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদেরকে 'পাবলিক সার্ভেন্ট' ঘোষণা দিয়ে ১৯৭৪-এর আইনে সংশোধন পূর্বক সংযোজন করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং আইন সচিব মহোদয়ের নিকট উল্লেখিত দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দাখিল করিয়াছেন। উল্লেখিত দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক সরকারের প্রতি জোরালো ভাবে আহ্বান জানানো হয়। এসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. খাদেমুল ইসলাম, সালেহ আহাম্মদ, মাহমুদুল হাসান ফুয়াদ, হাবিবুর রহমান মিঠু, মহিউদ্দিন তাজীম, আনোয়ারুল হক, ফুয়াদুল ইসলাম ফুয়াদ, আবু মুসা, এ,বি,এম বাকী বিল্লাহ ও বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ৫০ লাখ টাকা অনুদানের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রার্থীদের ইন্টারভিউর মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী যাচাই পূর্বক স্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিযোগের জন্য বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক বিধিমালা সর্বজন গ্রহণযোগ্য। যথাযথ সচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের বিধান বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানের জন্য আরেকটি বিশেষ বিধান জারী করা যুক্তিযুক্ত ছিল না।

মুসলিম নিকাহ্  রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তড়িঘড়ি করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের বিশেষ বিধানটি জারী করে দ্রুতগতিতে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক শত অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্টারের লাইসেন্স প্রদান করে একটি কুচক্রী মহল কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কুচক্রী মহল অনেক নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের ক্ষতি সাধন করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে চরম বিশৃঙ্খলা বহু মামলা মোকদ্দমা সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি কালো বিধান হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে বিধানটি বিদ্যমান থাকিলেও মন্ত্রনালয়ের আভ্যন্তরিন সিন্ধান্তে অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে বিগত সরকার। ইদানিং সেই কুচক্রী মহলটি সক্রিয় হয়ে অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে বিভ্রান্ত করে পূর্বের ন্যায় অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগ চালু করানোর পায়তারা করছে। 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ বিধান করার দাবিও জানিয়েছে মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ। রাজধানীতে এক  সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ছাব্বীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। মহাসচিব  কাজী মেহেদী হাসান নোমানের সঞ্চালনায় উত্থাপিত দাবিগুলো সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। অন্য দাবিগুলো হলো, বাল্য বিবাহ ও বহু বিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কনের এলাকার নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের অফিস কেন্দ্রীক বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা। কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের অবসরকালীন সময়ে সরকার কর্তৃক এককালীন পঞ্চাশ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা। নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের নিয়োগকালীন অধিক্ষেত্র অবসর পর্যন্ত বহাল রাখা। যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে পুত্র সন্তান নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিধানকে সংশোধন করে পুত্র সন্তানকে সরাসরি নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানে আইন প্রণয়ন করা। ভবিষ্যতে নতুন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য পেশায় স্ববেতনে নিয়োজিত থাকিলে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের অযোগ্যতার বিধান করা। নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ৩২ বছরের বিধান করা। নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদেরকে 'পাবলিক সার্ভেন্ট' ঘোষণা দিয়ে ১৯৭৪-এর আইনে সংশোধন পূর্বক সংযোজন করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং আইন সচিব মহোদয়ের নিকট উল্লেখিত দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দাখিল করিয়াছেন। উল্লেখিত দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক সরকারের প্রতি জোরালো ভাবে আহ্বান জানানো হয়। এসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. খাদেমুল ইসলাম, সালেহ আহাম্মদ, মাহমুদুল হাসান ফুয়াদ, হাবিবুর রহমান মিঠু, মহিউদ্দিন তাজীম, আনোয়ারুল হক, ফুয়াদুল ইসলাম ফুয়াদ, আবু মুসা, এ,বি,এম বাকী বিল্লাহ ও বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত