ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ: নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন



অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ: নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
ছবি: প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নবগঠিত একটি পঞ্চায়েত কমিটির বিরুদ্ধে অনুদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকার প্রতিটি পরিবার থেকে ন্যূনতম ৫০০ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সম্প্রতি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। অনেক বাসিন্দার দাবি, অনুদানের নামে অর্থ প্রদানকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে সামাজিকভাবে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ও সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, উন্নয়নের নামে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অনেক পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন নাইম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান প্রিন্স। এক যৌথ বক্তব্যে তারা বলেন, এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে জোর করে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়নি বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, একটি মহল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, পঞ্চায়েত কমিটি গঠন কিংবা অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। সাধারণ মানুষ তার কাছে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের অর্থ সংগ্রহের কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন এবং অবিলম্বে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অবৈধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায় না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এলাকার সামাজিক উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগকে উৎসাহিত করতেই তিনি কার্যালয় উদ্বোধনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো সংগঠন যদি অর্থ আদায় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ: নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নবগঠিত একটি পঞ্চায়েত কমিটির বিরুদ্ধে অনুদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকার প্রতিটি পরিবার থেকে ন্যূনতম ৫০০ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সম্প্রতি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। অনেক বাসিন্দার দাবি, অনুদানের নামে অর্থ প্রদানকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে সামাজিকভাবে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ও সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, উন্নয়নের নামে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অনেক পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন নাইম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান প্রিন্স। এক যৌথ বক্তব্যে তারা বলেন, এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে জোর করে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়নি বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, একটি মহল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, পঞ্চায়েত কমিটি গঠন কিংবা অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। সাধারণ মানুষ তার কাছে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের অর্থ সংগ্রহের কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন এবং অবিলম্বে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অবৈধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায় না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এলাকার সামাজিক উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগকে উৎসাহিত করতেই তিনি কার্যালয় উদ্বোধনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো সংগঠন যদি অর্থ আদায় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত