ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

রামু থানার এএসআই জাহিদের মানবিকতায় বাঁচলো প্রসূতি মা ও নবজাতক



রামু থানার এএসআই জাহিদের মানবিকতায় বাঁচলো প্রসূতি মা ও নবজাতক
ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রামুতে গভীর রাতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রামু থানার এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক প্রসূতি মা ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান।

জানা যায়, রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে রামু থানার রাত্রিকালীন মোবাইল-৫২ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন এএসআই জাহিদ। তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিএনজি যোগে বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে টহল টিম রাজারকুল সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক উদ্বিগ্ন মহিলা পুলিশ বহনকারী সিএনজিটিকে থামার সংকেত দেন।

পুলিশ সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই মহিলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সদ্য প্রসবকৃত সন্তানসহ অসহায় অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া না হলে মা ও নবজাতক দুজনেরই মৃত্যু হতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে এএসআই জাহিদ ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার কক্ষে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া পুলিশ বহনকারী সিএনজিতে একসাথে সবাইকে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। পরে এএসআই জাহিদ দেওয়ানপাড়া গ্রামের সিএনজি চালক শুক্কুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং তার সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

পরে মা ও নবজাতককে দ্রুত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও কিনে দেন পুলিশ সদস্যরা। চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবায় মা ও নবজাতক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার জোয়ার বইছে। মানবিক এই উদ্যোগের জন্য এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রামু থানার এএসআই জাহিদের মানবিকতায় বাঁচলো প্রসূতি মা ও নবজাতক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের রামুতে গভীর রাতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রামু থানার এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক প্রসূতি মা ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান।

জানা যায়, রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে রামু থানার রাত্রিকালীন মোবাইল-৫২ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন এএসআই জাহিদ। তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিএনজি যোগে বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে টহল টিম রাজারকুল সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক উদ্বিগ্ন মহিলা পুলিশ বহনকারী সিএনজিটিকে থামার সংকেত দেন।

পুলিশ সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই মহিলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সদ্য প্রসবকৃত সন্তানসহ অসহায় অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া না হলে মা ও নবজাতক দুজনেরই মৃত্যু হতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে এএসআই জাহিদ ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার কক্ষে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া পুলিশ বহনকারী সিএনজিতে একসাথে সবাইকে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। পরে এএসআই জাহিদ দেওয়ানপাড়া গ্রামের সিএনজি চালক শুক্কুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং তার সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

পরে মা ও নবজাতককে দ্রুত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও কিনে দেন পুলিশ সদস্যরা। চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবায় মা ও নবজাতক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার জোয়ার বইছে। মানবিক এই উদ্যোগের জন্য এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত