ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সিরাজগঞ্জে ভিজিএফ চাল তুলতে গুনতে হচ্ছে চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত টাকা



সিরাজগঞ্জে ভিজিএফ চাল তুলতে গুনতে হচ্ছে চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৮৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভার দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সোমবার চাল বিতরণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে চাল বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বরাদ্দে চাল দেওয়া হলেও উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চাল পরিবহন, ট্রাক ভাড়া, লোডিং-আনলোডিং ও শ্রমিক খরচ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের। কিন্তু এ কাজে প্রয়োজনীয় পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়ের জন্য আলাদা কোনো সরকারি সহায়তা না থাকায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, “গত ঈদুল ফিতরের সময়ও ভিজিএফ চাল বিতরণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। খাদ্যগুদাম থেকে ট্রাকে চাল তোলা, ট্রাক ভাড়া ও বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।”

নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কার্ডধারীর জন্য কয়েক টন চাল বরাদ্দ থাকে। এত পরিমাণ চাল পরিবহনে বড় ধরনের ব্যয় হয়। “গত ঈদুল ফিতরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে। এভাবে ব্যয় বহন করা জনপ্রতিনিধিদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি।

সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ইউনিয়নভেদে চাল পরিবহনে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়। এছাড়া গুদামে লোডিং ও ইউনিয়নে আনলোডিং বাবদ আরও কয়েক হাজার টাকা শ্রমিক খরচ দিতে হয়। “কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা দিচ্ছেন। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর ও অবাস্তব,” মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও চাল পরিবহনের ন্যূনতম ব্যয় না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার স্বার্থে কার্ডপ্রতি বা টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। এতে জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক চাপ কমবে এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা খরচ মেটানোর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন বা বিশেষ বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিরাজগঞ্জে ভিজিএফ চাল তুলতে গুনতে হচ্ছে চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৮৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভার দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সোমবার চাল বিতরণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে চাল বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বরাদ্দে চাল দেওয়া হলেও উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চাল পরিবহন, ট্রাক ভাড়া, লোডিং-আনলোডিং ও শ্রমিক খরচ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের। কিন্তু এ কাজে প্রয়োজনীয় পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়ের জন্য আলাদা কোনো সরকারি সহায়তা না থাকায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, “গত ঈদুল ফিতরের সময়ও ভিজিএফ চাল বিতরণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। খাদ্যগুদাম থেকে ট্রাকে চাল তোলা, ট্রাক ভাড়া ও বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।”

নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কার্ডধারীর জন্য কয়েক টন চাল বরাদ্দ থাকে। এত পরিমাণ চাল পরিবহনে বড় ধরনের ব্যয় হয়। “গত ঈদুল ফিতরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে। এভাবে ব্যয় বহন করা জনপ্রতিনিধিদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি।

সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ইউনিয়নভেদে চাল পরিবহনে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়। এছাড়া গুদামে লোডিং ও ইউনিয়নে আনলোডিং বাবদ আরও কয়েক হাজার টাকা শ্রমিক খরচ দিতে হয়। “কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা দিচ্ছেন। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর ও অবাস্তব,” মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও চাল পরিবহনের ন্যূনতম ব্যয় না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার স্বার্থে কার্ডপ্রতি বা টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। এতে জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক চাপ কমবে এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা খরচ মেটানোর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন বা বিশেষ বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত